চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় মাদক কারবারি ও
মাদকসেবিদের হামলায় গুরুতর আহত দিনমজুর বাবলুর রহমানের (৪০) একটি
চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। থানায় মামলা হলেও আসামীরা আগে ভগেই
জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বীরদর্পে। দুর্বল আইনি ব্যবস্থায় মাদক
কারবারিরা দিন দিন চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অভিমত স্থানীয়দের।
গত ৭ আক্টোবর উপজেলার হাজরাখানা গ্রামের জাহান আলীর ছেলে বাবলুর
রহমান দিনে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সন্ধার পর গ্রামের পীর বলুহ দেওয়ান (রঃ)
রওজা শরিফের পাশে এনামুলের চায়ের দোকানে আসে চা পান করতে। সন্ধা ৭
টার দিকে হাজরাখানা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন, বাবুল
হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন, টেংগুরপুর খালপাড়ার মফিজুর রহমানের
ছেলে রাব্বি হোসেন ও একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম চায়ের দোকানের
সামনে এসে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বাকবিতান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এ সময়
তারা একে অপরকে ব্যাপক গালিগালাজ করতে থাকে। দোকানে বসে থাকা
হামলার শিকার বাবলুর রহমান তাদেরকে গালমন্দ না করার জন্য বলা মাত্রই সকলে
তেড়ে আসে এবং টেংগুরপুর গ্রামের শওকত আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন
স্টিলের স্টিক দিয়ে (যা ছোট করে রাখা যায়) বাবলুর রহমানের মাথায় আঘাত
করে। মুহুর্তে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে
চৌগাছা সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার মাথায় ৬টি সেলায় দিতে
হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী। কিছুটা সুস্থ্য হয়ে পরের দিন ৮ তারিখে সে
চৌগাছা থানায় একটি মামলা করেন। আসামী আটকের আগেই মামলার ৪
আসামীর মধ্যে তিনজন জামিন নিয়ে চলে আসেন বাড়িতে। অপর আসামী
আছে আত্মগোপনে। মাথায় আঘাতের কারনে তার ডান চোখ নষ্ট হওয়ার
উপক্রম হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন চোখে উন্নত চিকিৎসা করা
না হলে কি হবে তা বলা মুশকিল। এ দিকে দরিদ্র দিন মজুর বাবলুর রহমান অর্থ
অভাবে পারছেন না সুচিকিৎসা নিতে। সরকারী হাসপাতাল হতে ছাড়পত্র
নিয়ে বর্তমানে তিনি নিজ গ্রামে ঝুপড়ি ঘরে নিদারুন কষ্টে দিন পার
করছেন।
গতকাল সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, আহত বাবলুর রহমান টিনের ঝুপড়ি
ঘরের বারান্দায় একটি চৌকি খাটে শুয়ে আছেন। এসময় কথা হয় আহতের
সাথে। তিনি বলেন, যারা আঘাত করেছে তারা সকলেই মাদকের সাথে জড়িত।
চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় তারা দোকানের সামনে এসে নিজেরাই
গালিগালাজ করছে। আমি নিষেধ করা মাত্রই তারা হামলা চালিয়ে আমাকে
আহত করে। বর্তমানে মাথা যেমন তেমন ডান চোখে কিছুই দেখতে
পারছি না। ডাক্তার বলেছে ভালো চিকিৎসা নিতে, কিন্তু টাকা অভাবে
পারছি না ডাক্তারের কাছে যেতে। মামলা করেছি কিন্তু তারা মামলা হওয়ার
সাথে সাথে আদালত হতে জামিন নিয়ে এসে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে।
প্রতিবেশিরা বলেন, বাবলুর রহমান একজন নিরীহ মানুষ, মাঠে পরের ক্ষেতে
কামলা দিয়ে তার সংসার চলে। গালিমন্দ করতে নিষেধ করাই ছিল তার কাল।
চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবিরা এই হামলা চালিয়েছে অথচ তারা রয়েছে
ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
চা বিক্রেতা এনামুল হোসেন বলেন, দোকানের সামনে প্রথমে
কথাকাটাকাটি পরে দোকানের পাশে নিয়ে তারা বাবলুর উপর হামলা চালায় যা
খুবই দুঃখজনক।
সংশ্লিষ্ঠ গ্রামের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মিলন এ বিষয়ে কোন মন্তব্য
করতে চায়নি। বিএনপি নেতা বাবলুর রহমান বলেন, ঘটনাটি খুবই
দুঃখজনক। আহত ব্যক্তি চরম অসহায় সে চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে পারছে না।
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার পর আহত
ব্যক্তি মামলা করেন এবং পুলিশ আসামীদের আটকে সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরের
দিনই একজন বাদে সকল আসামি মহামান্য আদালত থেকে জামিন নিয়ে
এসেছেন।

