Published on
:
2 min read
এই সময়, কৃষ্ণনগর: নদিয়ার কালীগঞ্জের মোলান্দি গ্রামের তমন্না খাতুন খুনের মামলায় শুরু হয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ। মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (তৃতীয়) দেবদীপ মান্নার এজলাসে ডিজিটাল ম্যাপ একপার্ট দেবজ্যাতি বসুকে জেরা করেন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী বিধান শিকদার এবং সুবীর বিশ্বাস। সোমবার দেবজ্যাতির প্রাথমিক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। এ দিন অর্ণব হালদার, যিনি খুনের ঘটনাস্থলে পুলিশে সঙ্গে গিয়ে ড্রোন উড়িয়েছিলেন তাঁরও জবানবন্দি নেওয়া হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবীরা।
প্রসঙ্গত, গত বছর ২৩ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের গণনার দিন তৃণমূলের প্রার্থী জয়ী হওয়ার পরে মোলান্দিতে বিজয় মিছিল বেরিয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেই মিছিল থেকে সিপিএম সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও বোমা মারা হয়েছিল। বাড়ির উঠোনেই খেলছিল ন’বছরের শিশু তমান্না। বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়। তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করলেও ঘটনায় যুক্ত বেশ কয়েক জন আসামি এখনও অধরা। সোমবার ডিজিটাল ম্যাপ একপার্ট দেবজ্যোতি বসুর প্রাথমিক জবানবন্দি নেন সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, ‘এই কেসের অনেকটাই দেরি হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী আসামি দেশের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল। তাঁদের ধরে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। খুনের ঘটনার টেকনিক্যাল এভিডেন্স যা আছে, সেগুলিকে দিয়ে কেসের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা হয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবার সরকার পক্ষের আইনজীবীরা জবানবন্দি নেন।’ এই মামলায় পুলিশ ৫৯ জনকে সাক্ষী করেছে। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী বিভাস বলেন, ‘আপাতত ঠিক হয়েছে আদালতে ৩০ জন সাক্ষী দেবেন।’
আদালতে দেবজ্যোতি বসু জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে জিপিএস ক্যামেরা ব্যবহার করে বেশ কিছু ছবি তোলেন। এর পরে পুলিশের দেওয়া ড্রোনের ছবি ও নিজের তোলা ছবি নিয়ে মোট ছ’টি ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করে পুলিশের কাছে জমা দিয়েছিলেন তিনি। আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে আজ, বুধবার কালীগঞ্জ থানার এএসআই রাজীব কুমার প্রামাণিক এই কেসে সাক্ষী দেবেন।
