আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিনের চাপ কাটিয়ে মার্কিন ডলারের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ভারতীয় মুদ্রা। বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো শক্তিশালী হল ভারতীয় টাকা। এদিন সকালে ডলারের তুলনায় ৩৬ পয়সা বেড়ে ৯৪.৯৯ স্তরে লেনদেন শুরু করে রুপি। দিনের প্রথম ভাগে আরও শক্তিশালী হয়ে পৌঁছে যায় ৯৪.৯২ স্তরে। অর্থাৎ, প্রতি ডলারের দাম ৯৫ টাকার নিচে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে টানা দরপতনের পর এই পুনরুদ্ধার ভারতীয় মুদ্রার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, মার্কিন ডলারের তুলনায় ৯৫.৩৬ স্তরে লেনদেন শেষ করেছিল ভারতীয় টাকা। তার আগে সোমবারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল মুদ্রার দামে। শুক্রবারের ৯৬.৭১ স্তরের সঙ্গে তুলনা করলে, মাত্র তিনটি লেনদেনের দিনে ডলারের বিরুদ্ধে মোট ১৭৯ পয়সা শক্তিশালী হয়েছে রুপি।
কেন বাড়ছে ভারতীয় টাকার দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় মুদ্রার এই ঘুরে দাঁড়ানোর পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত পদক্ষেপের। ডলারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য ফেরানো এবং মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত জল্পনামূলক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করাই এই পদক্ষেপগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।
তেল সংস্থাগুলির জন্য ডলার সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা করেছে আরবিআই। ব্যাঙ্কের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ডলার পাওয়ার সুযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ডলার কেনার জন্য স্পট ফরেক্স মার্কেটের উপর সরাসরি চাপ কমতে পারে। এর ফলে ডলারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা থেকে ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যবহৃত কিছু হেজিং লেনদেনের খরচও বাড়ানো হয়েছে। এর লক্ষ্য মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমানো এবং টাকার উপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
আরবিআই গভর্নর কী বলছেন?
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই পদক্ষেপগুলির পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে জল্পনামূলক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করা হলেও যেসব সংস্থার প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়েছে, তাদের হেজিংয়ের সুযোগ বজায় রাখা জরুরি।
প্রয়োজনে মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে গভর্নর জানান, আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ছাড়া মূল্যস্থিতির লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। কারণ, আর্থিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতার উপরই মুদ্রানীতির প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করে।
তিন দিনে কীভাবে বাড়ল রুপির দাম?
সোমবার ডলারের তুলনায় ৯৩ পয়সা বেড়ে ৯৫.৭৮ স্তরে পৌঁছেছিল ভারতীয় টাকা। ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সেটি ছিল এক দিনে রুপির অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। মঙ্গলবার আরও ৪২ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৫.৩৬ স্তরে লেনদেন শেষ করে মুদ্রাটি। বুধবার সকালের বৃদ্ধিতে সেই পুনরুদ্ধার আরও জোরদার হয়েছে।
তবে আগামী দিনে রুপির দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে ডলারের চাহিদা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে লেনদেন এবং আরবিআইয়ের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তার উপর। আপাতত টানা তিন দিনের এই বৃদ্ধি ভারতীয় মুদ্রার জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
