October 12, 2026, 1:33 am
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ, সুভাস্তু ডেভেলপমেন্টে দুদকের অনুসন্ধান
Reporter Name
- Update Time : Monday, October 12, 2026
- 11 Time View
অপরাধ ডেস্ক: গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগে দেশের অন্যতম শীর্ষ আবাসন প্রতিষ্ঠান সুভাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান এবং অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুদকের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে এই অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই মূলত বহুল আলোচিত এই আবাসন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি শুরু হলো। দীর্ঘদিন ধরে শত শত গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়ার পর কমিশন নড়েচড়ে বসেছে।
দুদকের মানি লন্ডারিং শাখা সূত্রে জানা গেছে, সুভাস্তু ডেভেলপমেন্টের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনার পরেই অনুসন্ধান দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুসন্ধানের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিল এবং সেই তহবিল কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ নির্ধারিত আবাসন প্রকল্পে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল নাকি অন্য কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ব্যাংকিং লেনদেনে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা বের করতে সংশ্লিষ্ট নথিগুলোও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগটিকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেশ থেকে অবৈধভাবে কোনো অর্থ বাইরে পাঠানো হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। সন্দেহভাজন আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য শনাক্ত করতেও কাজ শুরু করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে সুভাস্তু ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান ও অন্যান্য পরিচালকদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব সম্পদের পরিমাণ তাঁদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখবে দুদক।
সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অনুসন্ধান শেষ করে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা কিংবা তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার আইনি পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সুভাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের বক্তব্য জানার জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে কল করা ছাড়াও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


