ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ (Yellow Vest) গোষ্ঠীর ডাকা বিক্ষোভ চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে প্রায় ১,৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ এ তথ্য জানান। বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ জানান, ৫০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য, জেন্ডার্ম ও দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আহতের এই সংখ্যাটি প্রাথমিক হিসাব মাত্র। দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এছাড়া, কয়েকশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের বস্তুগত ক্ষতির শিকার হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সারা দেশে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যার মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ ছিলেন প্যারিসে। তবে আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।
এই বিক্ষোভে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ গোষ্ঠী, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা একত্রিত হয়েছিলেন। প্যারিসে মূল মিছিলটি বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হলেও, অন্যান্য কয়েকটি শহরে বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
প্যারিসের বুলেভার্ড ম্যাজেন্টায় এক বিক্ষোভকারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা যান। পুলিশের ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তির কার্ডিওরেসপিরেটরি অ্যারেস্ট (হৃদযন্ত্র ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হওয়া) হয়েছিল। এছাড়া, ‘লে প্যারিসিয়েন’ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট-এতিয়েনে পুলিশের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর তার একটি হাত হারিয়েছে।
প্যারিস পুলিশ ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন যে ৭২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫১৭ জনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই সংখ্যাগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়।
লিমাঝ (Limoges) শহরে অগ্নিকাণ্ডে ঐতিহাসিক সিটি হল ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া মার্সেই, লিওঁ ও বোর্দোসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে লুটপাট হয়েছে এবং অনেক ভবনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করবেন। বৈঠকে বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রভাব, বিমা সংক্রান্ত বিষয় এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁ-র মেয়রদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন; যারা পুলিশের সম্পদ ও অস্থিরতা সামলানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
বিএফএমটিভি (BFMTV)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রন-পিভে একটি সংসদীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন এবং মঙ্গলবার তিনি বিভিন্ন সংসদীয় দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
লেকর্নু এই সহিংসতার জন্য ‘অতি-বাম’ গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতারা পুলিশের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছেন। গ্রিন পার্টির রাজনীতিবিদ মারিন টন্ডেলিয়ার নুনেজের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
ক্যারিফোর (Carrefour)-এর প্রধান নির্বাহী আলেকজান্দ্রে বোম্পার্দ জানিয়েছেন যে, তাদের ৫০টিরও বেশি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ইউরো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
