প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরও পড়ুন
পরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
একই বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশের খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে বলে এসময় জানিয়েছে সচিব।
আরও পড়ুন
শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থানান্তর প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেসের পাশাপাশি তিনটি বেজমেন্টে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত। ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে নির্মিত ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন এবং ১৯৪৭ সালে নির্মিত ৫ নম্বর ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করে তৈরি করা হয়নি। ঢাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় হওয়ায় এসব ভবনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমান ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মপরিসর ও প্রয়োজনীয় ওয়াশ-ব্লক নেই। এতে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে।
বর্তমান সচিবালয়ে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চাহিদা এবং সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে একই স্থানে আনতে আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়ের ধারণাগত নকশা তৈরি করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪টি ১২ তলা ভবনের পাশাপাশি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতার দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর নির্মাণ করা হবে। তিনটি বেজমেন্টে ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংসহ মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখা হবে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিংয়ের শর্ত রাখা হয়েছে।
সরকার আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিকে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার বা ওপেক্স মডেল বলা হয়। নিজস্ব আয় রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান চাইলে ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা ক্যাপেক্স মডেলেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারবে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদ ব্যবহারের বিনিময়ে বিদ্যুতের অংশ দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় নতুন অধ্যাদেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত সরকারি ক্রয়, বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ আইনেও এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট বিধান নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ‘রটারডাম কনভেনশন’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
কনভেনশনটিতে যুক্ত হলে বিপজ্জনক রাসায়নিকের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন পেতে সহায়তা এবং রাসায়নিকের তথ্যভান্ডার তৈরি ও সেগুলোর চলাচল শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিপজ্জনক রাসায়নিকের আমদানি-রপ্তানির বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির সুযোগ পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশক বিষয়ে বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও আইনি তথ্য বিনিময় এবং কনভেনশনের সচিবালয় থেকে কারিগরি সহায়তা নেওয়া সম্ভব হবে। ১৯৯৮ সালে গৃহীত এ কনভেনশন ২০০৪ সালে কার্যকর হয়। বর্তমানে এর সদস্য ১৬৭টি দেশ। বাংলাদেশ ও ভুটান ছাড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) বাকি সদস্য দেশগুলো ইতোমধ্যে এতে যুক্ত হয়েছে।
আনিসুর রহমান তপন/এসএন
