কালবেলা · অর্থনীতি
চাঁদা না পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-লুট, ‘চিকনা রাজু’ গ্রেপ্তার
২৩/১০/২০২৬

চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের মামলায় মো. রাজ্জাক প্রকাশ ওরফে চিকনা রাজুকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নগরের চান্দগাঁও থানার টেকবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গণসংযোগ বিভাগ এ তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তার রাজ্জাক ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ফরাজী বাড়ির আলমগীর ফরাজীর ছেলে। তিনি নগরের চান্দগাঁও থানার টেকবাজার এলাকার পুলসংলগ্ন রিয়াদ কলোনিতে বসবাস করেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মানুন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মামলার আসামি রাজ্জাককে শনাক্ত করা হয়। পরে টেকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়। ফোনদাতা নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ১৩ জুলাই দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ জুলাই দুপুর ১২টা ১৫ থেকে ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নগরের চকবাজার থানার ১২১ মনুমিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা অফিসের কাঁচের দরজা, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জুলাই চকবাজার থানায় মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ০৭। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৫, ৩৮০, ১০৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে রাজ্জাককে দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রথমে কার্যালয়ে প্রবেশ করে কাঁচের দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে দেখা যায়। পরে তিনি সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে অফিসের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের অভিযোগ, চাঁদা দাবির ফোনালাপে ডেভিড ইমন তাকে ব্যবসা চালাতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে বলেন। ব্যবসা তারাই পরিচালনা করবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয়। কথোপকথনের সময় ইমন নিজের পরিচিতি ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন এবং তার ছবি পুলিশ কমিশনারকে দেখিয়ে চিনে নিতে বলেন বলে দাবি করেন আদিল। এ ছাড়া স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি চালানোর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেও তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ ১৫টি মামলার আসামি। তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিতেন।
গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তাকে ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৯টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন কারাগারে থাকায় মোহাম্মদ রায়হান দলটির কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে পুলিশের দাবি। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা ও লুটের ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗