
কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা
কুমিল্লা সদর উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে ছত্রখিল এলাকায় কাউছার নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত কাউছার কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা এবং স্থানীয় নেতা কবিরের ছোট ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ছত্রখিল এলাকায় অবস্থানকালে কাউছারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় কতিপয় দুর্বৃত্ত। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় কাউছারকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে এক অটোরিকশা চালককেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও উত্তেজনা দেখা দেয়। নন্দীরবাজার এলাকায় অভিযুক্ত তৌহিদের বাড়িতে হাজির হয় উতেজিত জনতা। পরে সিটি করপোরেশন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে কী কারণে কাউছারকে হত্যা করা হয়েছে এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করে সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, খুনের আগেরদিনও কাউছার তার সাথে দেখা করেন।
তবে কি নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড এ বিষয়ে সরাসরি কেউ অভিযোগ না করলেও স্থানীয়রা জানান, তৌহিদ নামে এক ব্যক্তির সাথে কাউছারের জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, শুক্রবার কাউছার গোমতীনদীর উত্তরপাড়ে ছত্রখীল পুলিশফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কতিপয় দূর্বৃত্ত দুটি ছুরি দিয়ে কাউছারকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে। এ সময় এক অটোরিকশা চালক বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও কোপানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাউছারকে মৃত ঘোষনা করে। এদিকে অটোরিকশা চালকের অবস্থাও আশংকাজনক।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারি আবু এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকলের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড৷ অভিযুক্ত তৌহিদের সাথে আরো কয়েকজন ছিলো। এ নিয়ে এখনো মামলা করেনি। শনিবার জানাযার নামাজ শেষে পরিবার মামলা দায়ের করবে। আসামী গ্রেফতারের বিষয়ে অভিযান চলছে।
ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ: বৃহত্তর কুমিল্লা আন্তর্জাতিক রাজনীতি
