জিম্বাবুয়ের বিপক্ষের উড়ন্ত সূচনা করেও বিপাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিনা উইকেটে ৪৭ রান করা বাংলাদেশ; এরপর মাত্র ২১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
৩০০ বলে ২৭২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৯ বলে ৪৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তানজিদ।
এই ৪৭ রান করার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তামিমের। তিনি উইকেটের এক প্রান্তে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকালেও অন্য প্রান্তে সৌম্য সরকার রীতিমতো ডট বল খেলে যান। মুজারাবানির বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য। তিনি ইনিংসের শুরু থেকে নিজের খোলস থেকেই বের হতে পারেননি। ১৭ বল খেলে করেন মাত্র ৯ রান।
সৌম্য আউট হওয়ার পর মাত্র ২১ রানের ব্যবধানে ফেরেন আরও দুই তারকা ব্যাটসম্যান; ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তামিম ৩৮ বলে ৯টি চার আর এক ছক্কায় ৪৬ রান করলেও ৮ বলে ৪ রানের বেশি করতে পারেননি শান্ত।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে খেলায় ফেরাতে চেষ্টা করেন তাওহীদ হৃদয় ও সাইফ হাসান।
শনিবার আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামি টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে দুই ব্রেন্ডন টেলর আর ক্রেগ আরভিনের ব্যাটিং তাণ্ডবে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে।
অবশ্য প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তাসকিন। ৪.১ ওভারে আরেক ওপেনার বেন কারানও তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউ হন।
সপ্তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ২৪ রানে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তাফাদজা সিগা। আজকের এই অভিষেক হয় তার। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ বলে ১৬ রান করে ফেরেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সিগা আউট হওয়ায় জিম্বাবুয়ে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
পাওয়ার প্লের ১০ ওভারের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩০ রান। অথচ সেই জিম্বাবুয়ে বাকি ৪০ ওভারে করে ২৪১ রান। যা সম্ভব হয়েছে ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিনের সৌজন্যে।
চতুর্থ উইকেটে টেলর আর আরভিন ১৭৬ বলে ১৫০ রানের জুুটি গড়ে দলের ভিত মজবুত করেন। দলীয় ১৭৪ রানে আউট হন টেলর। তার আগে ১০১ বলে ১০টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৮১ রান।
টেলর আউট হওয়ার পর দলকে এগিয়ে নেন ক্রেগ আরভিন। দলীয় ২২৪ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন আরভিন। তার আগে ১০৬ বলে ৯টি চারের সাহায্যে করেন ৯১ রান। মাত্র ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন তিনি।
৪৫.৫ ওভারে ২৩৪ রানে অষ্টম উইকেট পতনের পরও দলকে এগিয়ে নেন নিউম্যান নিয়ামহুরি আর ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তারা শেষ ২৬ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়েন। শেষ দিকে তাদের তাণ্ডবের কারণেই ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে সম্ভম হয় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশ দলের হয়ে ৩ উইকেট নেন তাসকিন। দুটি করে উইকেট নেন সাইফ হাসান ও শরিফুল ইসলাম।