কিশোরসহ ব্যবহারকারীদের আত্মহানি ও অন্যের ক্ষতি করার মতো বিপজ্জনক কাজে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্য।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ আদালতে পৃথকভাবে মামলাগুলো করেন। তাঁদের অভিযোগ, ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন ও কথোপকথন দীর্ঘায়িত করতে চ্যাটজিপিটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি প্রায় সব সময় ব্যবহারকারীর সঙ্গে একমত হওয়ার প্রবণতা দেখায়। এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীদের ভুল ধারণাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বিপজ্জনক আচরণে উৎসাহ জোগাতে পারে। এমনকি বড় ধরনের বন্দুক হামলার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে মামলাগুলোতে।
মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো হলো আইওয়া, কানসাস, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, আইডাহো, মন্টানা, নেব্রাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আট অঙ্গরাজ্যের সমন্বিত এই আইনি পদক্ষেপকে ওপেনএআইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতির মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক আইনি জটিলতার মুখে পড়ছে।
মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে ওপেনএআই সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে প্রতিষ্ঠানটি জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতের কাছে এমন নির্দেশনা চেয়েছে, যাতে ওপেনএআইকে চ্যাটজিপিটির কার্যপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা যায়। তাদের অন্যতম দাবি, মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি থেকে বিরত রাখতে হবে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ওপেনএআইয়ের কাছ থেকে আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণও চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এর আগে গত জুনে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল চ্যাটজিপিটির শিশু নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে প্রথম মামলা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যক্তিগত বাদীদের করা আরও কয়েক ডজন মামলার মুখেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের বড় ধরনের বন্দুক হামলা ও অন্যান্য সহিংসতার পরিকল্পনা করতে সহায়তা করেছে। তবে মামলাগুলোতে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ফলে অভিযোগ ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা, শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আট অঙ্গরাজ্যের এই মামলাগুলো সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
The post তরুণদের ক্ষতির অভিযোগে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ অঙ্গরাজ্যের মামলা appeared first on ভোরের চেতনা.
