কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে অনিয়ম, যোগ্যতা যাচাইয়ে অসংগতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। কমলপুর, লামপুর ও ফিরিঙ্গীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সদস্য ক্যাটাগরির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সালমান ফারসিকে “অবসরপ্রাপ্ত কওমি শিক্ষক” ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি ২০২৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তাঁর শিক্ষকতা ও অবসর গ্রহণের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, লামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুল করিম (বিপ্লব) কখনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি না করলেও তাঁকে ‘অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি একটি বেসরকারি কমিউনিটি স্কুলে চাকরি করার পর প্রবাসে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তিনি বিদ্যালয় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতার এক আত্মীয় (বোনজামাই) হওয়ার সুবাদে তিনি সভাপতির পদ পেয়েছেন—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
এ ছাড়া ফিরিঙ্গীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত সভাপতি আবুল কালাম মজুমদারকে “অবসরপ্রাপ্ত কওমি শিক্ষক” ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনটি বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে নিয়মাবলিতে, বিশেষ করে ১২ নম্বর সদস্য ক্যাটাগরির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফওজিয়া আকতার বলেন, “আমরা যা করেছি নিয়ম মেনেই করেছি। স্কুল থেকে যেভাবে যাচাই-বাছাই করে পাঠিয়েছেন, আমরা সেইভাবেই অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি।” আরও তথ্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল তিনটি বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের নথি, সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, অবসরসংক্রান্ত প্রমাণপত্র এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়া যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার আরও কমপক্ষে এক ডজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত থাকবে।
