বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল ১২০ থেকে ১৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে
বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী
বরেন্দ্র অঞ্চলের সব গভীর নলকূপ সৌরবিদ্যুতে চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল ১২০ থেকে ১৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। গভীর নলকূপে সেচ খরচ কমাতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতাধীন প্রায় ১৫ হাজার গভীর নলকূপ ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫৩টি গভীর নলকূপ সৌরবিদ্যুৎচালিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও সেচ ব্যয় কমাতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অধীনে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার গভীর নলকূপ সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫৩টি গভীর নলকূপ সৌরবিদ্যুতচালিত করা হয়েছে। এই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ চালিত এসব নলকূপে নেট মিটারিং চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেয়া যায়। এতে বিএমডিএ’র বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, কৃষকদের সেচ খরচ সাশ্রয় হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। বিএমডিএ’র আওতাধীন গভীর নলকূপগুলো সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করা হলে বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। বিএমডিএ বর্তমানে প্রতিবছর বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে। নলকূপগুলো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা সম্ভব হলে এই খরচ কমে বছরে মাত্র ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকায় নেমে আসবে। এছাড়াও ১৫ হাজার গভীর নলকূপ ও লো-লিফট পাম্পকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে ‘নেট মিটারিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব। এর ফলে সেচ মৌসুম ছাড়া বাকি সময়ে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য খাতের ঘাটতি মেটাবে। গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫ থেকে ৬ টাকা সাশ্রয় হয়। এতে বিএমডিএ’র পরিচালনা ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষকদের সেচ খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে দাবি করা হয়। এই কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য হলো, সেচ ও বিদ্যুৎ খরচ হ্রাস করা এবং কৃষকদের উপর জ্বালানির চাপ কমানো। এই কার্যক্রম কৃষি মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
উপদেষ্টার মতবিনিময়
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে এবং কৃষি উৎপাদনব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও টেকসই করতে বিএমডিএ’র আওতাধীন সবগুলো ডিপ টিউবওয়েল যাতে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহীতে বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। রেহান আসিফ আসাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কৃষকেরা যাতে সহজে ও কম খরচে জমিতে সেচ দিতে পারেন, সে জন্য সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুতে ডিপ টিউবওয়েল পরিচালনা করা গেলে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সেচব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারও সম্প্রসারিত হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এ নির্দেশনার আলোকে বিএমডিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও ব্যবহারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খানের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম, সচিব মেহেদী হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খান, শিবির আহমেদ, তরিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, তোফাজ্জল আলী সরকার, এ এস এম দেলোয়ার হোসেন, আতিকুর রহমানসহ বিএমডিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
