প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুটি অসচ্ছল পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে জামালপুর বন্ধুসভা। সে জন্য পরিবার দুটিকে দুটি সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবর তাদের হাতে এগুলো তুলে দেন বন্ধুরা।
এর মধ্যে একটি পরিবার শারীরিক প্রতিবন্ধী তারিকুল ইসলামের। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী এলাকায়। তাঁর পিতা মো. সিরাজ উদ্দিন ও মা মোছা. হনুফা বেগম। বর্তমানে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেরপুরের নন্দীর বাজারে বসবাস করছেন। চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তাঁর সাত সদস্যের পরিবার। তারিকুল নিজে উঠে দাঁড়াতে বা একা হাঁটাচলা করতে পারেন না। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় কাজের জন্যই তাঁকে অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর স্ত্রী অকৃত্রিম ভালোবাসা ও অসীম ধৈর্য নিয়ে তাঁকে কোলে তুলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।
অন্যদিকে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশিদের স্ত্রী মোছা. হেলেনা বেগম। চার মেয়ে, এক সন্তানসহ সাত সদস্যের অসচ্ছল পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে তাঁদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। সীমিত সামর্থ্য ও অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের সুশিক্ষিত করা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার স্বপ্ন বুনে চলেন তাঁরা। দৈনন্দিন চাল-ডালের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বাস্তবতায় একটি সেলাই মেশিন হেলেনা বেগমের জন্য উপার্জনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

বন্ধুরা জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কেবল তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা দেওয়া নয়, বরং অসচ্ছল মানুষকে আত্মনির্ভরশীলতার পথ দেখানো। সেলাই মেশিন হস্তান্তরের এই উদ্যোগ ওই দুটি পরিবারের জন্য কেবল একটি যন্ত্র উপহার নয়, বরং এটি স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন, স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার শক্তি এবং নতুন এক সম্ভাবনার প্রতীক। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিকতার চর্চাকে আরও জোরদার করবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি অন্তরা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাকি বিল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক নাহিদ ইসলাম, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক নুসরাত শৈলীসহ অন্য বন্ধুরা।
সহসাংগঠনিক সম্পাদক, জামালপুর বন্ধুসভা
