দেশে প্রযুক্তিনির্ভর কেনাকাটা ও ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসারে দ্রুত বাড়ছে ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ১০৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বাজারে সচল কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৯৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেনের প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে মোট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ, যা চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখে। এই সময়ে প্রিপেইড কার্ড ইস্যুর হার বেড়েছে সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৮০৩ শতাংশ।
এ ছাড়া ডেবিট কার্ডে ৬৯ শতাংশ ও ক্রেডিট কার্ডে ৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ডে মাসিক লেনদেন যেখানে ছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায়।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারের প্রবৃত্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত আগস্ট মাসে বিদেশে নিবন্ধিত কার্ড নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশিরা লেনদেন করেছেন ২৪৯ কোটি টাকা।
অথচ একই সময়ে বাংলাদেশি কার্ড দিয়ে বিদেশে ব্যয় করা হয়েছে ৯৮৭ কোটি টাকা—যা বিদেশিদের দেশে করা ব্যয়ের প্রায় চার গুণ। বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে শীর্ষ স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (১৭.১৬%), যার পরেই রয়েছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভারত।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ডের সার্বিক ব্যয়ে সামান্য মন্থরগতি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দেশে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা জুলাই মাসের তুলনায় ৫.৪৪ শতাংশ কম। আগস্টে ক্রেডিট কার্ডের মোট খরচের সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ৪৮.১৪ শতাংশ বা ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বিভিন্ন সুপারশপ ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরে। এ ছাড়া খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র, পরিষেবার বিল ও ওষুধের দোকানেও সিংহভাগ অর্থ খরচ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, আগস্ট মাস শেষে বাজারে ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদিত মোট ঋণসীমা ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের বকেয়া পাওনা ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। তবে কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও নগদ অর্থের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, ডিজিটাল অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার পূর্ণ প্রসারে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
