সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২৪ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের আদলে তরুণদের আন্দোলন-বিক্ষোভে সমর্থন দিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেস ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পতন ঘটাতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার দাবি, কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট তরুণদের শক্তিকে রাজনৈতিক সংঘাত ও নৈরাজ্য ছড়ানোর কাজে লাগাচ্ছে।
নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন রাজনাথ সিং। তিনি জানান, গণতন্ত্র কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার অধিকার দেয় না।
‘তরুণদের নৈরাজ্যের রাজনীতিতে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে’ অভিযোগ করে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘মনে হচ্ছে, কংগ্রেস ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা প্রত্যক্ষভাবে এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের শক্তিকে গঠনমূলক কাজ ও দেশ গঠনে ব্যবহারের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংঘাত উসকে দেওয়া এবং নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের আদলে ভারতে সরকার পরিবর্তন করতে চায় কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা। ওই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।
রাজনাথ সিং বলেন, ‘তারা সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যেই বলছে, সরকার পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে। আবার কেউ প্রকাশ্যে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা বলছে। এতে স্পষ্ট, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা।’
‘বিরোধীদের মুখে “সরকার পরিবর্তনের” মতো শব্দের ব্যবহারই প্রমাণ করে, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নির্বাচনী সংস্কার কিংবা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান নয়’, যোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন সরকারবিরোধী ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা-সমর্থকরা। তাদের সঙ্গে সমর্থন জানিয়ে একই সময়ে বিক্ষোভ করছেন দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এর ফলে ভোট দেওয়ার যোগ্য অনেক নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ সিং বলেন, ‘রাহুল গান্ধী ও তার মিত্রদের বুঝতে হবে, গণতন্ত্রের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কিংবা দেশের উন্নয়নে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন মেনে চলাও জরুরি। রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিসর্জন দেওয়া যায় না।’
রাজনাথ সিংয়ের মতে, মিথ্যাচার, ক্ষোভ, প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ভারতের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। গণতন্ত্র রক্ষার নামে ‘ধ্বংসাত্মক রাজনীতি’ করার পরিবর্তে জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে এবং নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করতেও রাহুল গান্ধীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ আমাদের সবার দায়িত্ব। সংঘাতের পরিবর্তে আমাদের সংলাপ ও দেশ গঠনের পথ বেছে নিতে হবে।’
এর আগে বুধবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ পার্টির ডাকা আন্দোলনে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার পর সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা দেন ভারতের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে চলমান স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ।
ভিডিও বার্তায় নেহা বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বিপ্লবী শুভেচ্ছা ও লাল সালাম জানাচ্ছি। আমরা জানি, আমাদের দেশে বর্তমানে যে জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলন চলছে, তার শুভসূচনা প্রথম হয়েছিল বাংলাদেশে। তারাই আমাদের এই রাজপথের আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে।’
গুগলে আমাদের খবর পেতে
