নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শ ও সমকালীন সমাজ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রেসক্লাবের জহুরুল হক মিলনায়তনে নারী সুধীবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর নাঈমা মোয়াজ্জম, সহ- সভাপতি, নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক ডা: তাহেরা বেগম।
আলোচনা সভায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সীরাতের বিভিন্ন দিক, আধ্যাত্মিকতা এবং সমকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে নববী আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ৫টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ৫ জন বিশিষ্ট আলোচক অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য পেশ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রফেসর নাঈমা মোয়াজ্জম তাঁর স্বাগত বক্তব্যের পর ‘পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শ’ বিষয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে পারিবারিক ভাঙন ও অশান্তি দূর করতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পারিবারিক জীবনই আমাদের জন্য একমাত্র পথপ্রদর্শক। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের প্রতি নবীজির ভালোবাসা ও কোমল আচরণ ধারণ করাই সুখী পরিবারের মূল ভিত্তি।
এরপর প্রফেসর আফিফা মুশতারী , সহ- সভাপতি , নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন ‘হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সালাত ও আল্লাহর প্রতি ব্যাকুলতা’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
তিনি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ইবাদত ও আধ্যাত্মিকতার গভীরতা তুলে ধরে বলেন, সালাত কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা ছিল আল্লাহর সাথে নবীজির প্রেমের কথোপকথন ও পরম প্রশান্তির মাধ্যম। আল্লাহর ভয়ে সালাতে তাঁর ব্যাকুলতা ও রোদন আমাদের ইবাদতের গুণগত মান বৃদ্ধির তাগিদ দেয়।
আজকের তরুণ প্রজন্মের নৈতিক সংকট ও করণীয় নিয়ে সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর ডঃ শারমীন ইসলাম ‘সমকালীন চ্যালেঞ্জ ও তরুণদের পথপ্রদর্শক হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন তরুনদের জন্য মহান আদর্শ ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তরুন বয়স থেকে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও একজন দায়িত্বশীল মানুষ। তার মধ্যে ছিল চিন্তাশীলতা ও সৃজনশীলতা। তিনি সৎ ভাবে ব্যবসা করে সফল হয়েছেন। বন্ধু নির্বাচনে তিনি ছিলেন সচেতন । এসবই আজকের তরুনদের জন্য একটা শিক্ষা।
সংগঠনের সহ- সম্পাদক ডঃ সাজেদা হোমায়রা ‘ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)’ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে কন্যাসন্তানের জীবনের নিরাপত্তা দিয়েছেন, মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত ঘোষণা করেছেন এবং সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছেন। সমাজে নারীর প্রকৃত সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে আনতে সিরাতের চর্চা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ইন্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সিরাতের শিক্ষা’ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বহুজাতি ও বহুধর্মের সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ইনসাফ কায়েমের ক্ষেত্রে মদিনা সনদ পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান এবং অনন্য এক দলিল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাসূলের এই শিক্ষা আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’
সভার শেষ পর্যায়ে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুন নাহার বলেন, "আমরা এমন এক যান্ত্রিক যুগে বাস করছি যেখানে আমাদের বাহ্যিক চাকচিক্য বাড়লেও ভেতরের আধ্যাত্মিক জগতটা শুকিয়ে যাচ্ছে। মা আয়েশা (রা.) ও মা ফাতিমা (রা.)-দের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের মা-বোনদের ঘরের ভেতর নবীজির ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।" তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "সাংবাদিক ভাইয়েরা সমাজের দর্পণ। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা ও শান্তির এই চিরন্তন বাণীগুলো আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দিন।"
সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
