সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সৈয়দরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাআতা গ্রামে জন্ম আলতাব আলীর। পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করার আশায় ১৯৬৯ সালের দিকে তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। পূর্ব লন্ডনের ব্রিক লেন এলাকায় পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের পূর্ব প্রান্তের হোয়াইটচ্যাপেল। ১৯৭৮ সালের ৪ মে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ২৪ বছর বয়সী বাঙালি পোশাকশ্রমিক আলতাব আলী। পথে বর্ণবাদী হামলায় নিহত হন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক আর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে। ১০ দিন পর, ১৪ মে, আলতাব আলীর কফিন সামনে রেখে হাজারো মানুষ নেমে আসেন রাস্তায়। হোয়াইটচ্যাপেল থেকে হাইড পার্ক হয়ে তাদের প্রতিবাদ পৌঁছায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটে।
সেদিনের সেই মিছিল ছিল একজন তরুণের হত্যার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি ব্রিটেনে বাঙালিদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। পূর্ব লন্ডনের বাঙালি সম্প্রদায়ের ইতিহাসে আলতাব আলী হত্যাকাণ্ড হয়ে ওঠে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল।
এই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের মানুষের অভিবাসনের দীর্ঘ কাহিনি। জীবিকার সন্ধানে ব্রিটেনে যাওয়া সিলেটিরা সেখানে শুধু নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলেননি, নতুন সমাজে বসবাসের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও যুক্ত হয়েছেন। তাদের সেই পথচলায় ছিল কঠোর পরিশ্রম, আবাসনসংকট, বর্ণবাদী হামলা এবং সংগঠিত প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা।
ব্রিটেনের সঙ্গে সিলেটের মানুষের যোগাযোগের ইতিহাস বহু পুরোনো। ঔপনিবেশিক আমলে কলকাতা থেকে বিভিন্ন দেশে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজে কাজ করতেন বাংলার নাবিকেরা। তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট অঞ্চলের মানুষও। জাহাজের শ্রমিক হিসেবে ব্রিটেনে পৌঁছে তাদের কেউ কেউ সেখানেই থেকে যান। পরিচিতজনের সহায়তায় কাজ খোঁজা, নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা এবং ধীরে ধীরে বসতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে বাঙালি অভিবাসী সমাজের বিস্তার ঘটে।
পূর্ব লন্ডনের স্পিটালফিল্ডস এলাকায় সিলেটিদের যোগাযোগের একটি কেন্দ্র ছিল শাহ জালাল ক্যাফে। সেখানে নতুন আসা মানুষ কাজের খবর, পরিচিতজনের সন্ধান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতেন। অভিবাসনের শুরুর দিকে এমন জায়গাগুলোই বিদেশবিভুঁইয়ে টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনে পুনর্গঠনকাজের জন্য শ্রমের চাহিদা বাড়ে। এ সময় সিলেট থেকে আরও অনেকে ব্রিটেনে যান। তাদের অনেকের লক্ষ্য ছিল কাজ করে অর্থ উপার্জন, দেশে থাকা পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো এবং একসময় নিজভূমিতে ফিরে আসা।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে। ব্রিটিশ শিল্পে মন্দা দেখা দিলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যায়। অনেককে নতুন কাজ খুঁজতে হয়। পূর্ব লন্ডনে পোশাক তৈরির ছোট কারখানা ও রেস্তোরাঁয় কাজের সুযোগ থাকায় সিলেটি অভিবাসীদের একটি অংশ সেখানে বসতি গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ও তাদের অংশগ্রহণ বাড়ে।
তবে কাজের সুযোগ থাকলেই জীবন সহজ হয়ে ওঠেনি। স্বল্প আয়, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং দেশে পরিবারের কাছে নিয়মিত অর্থ পাঠানোর দায়িত্বের কারণে অনেকের পক্ষে উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা কঠিন ছিল।
প্রথম দিকে পুরুষদের একা থাকার উপযোগী পুরোনো আবাসনগুলো স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাসের জন্য যথেষ্ট ছিল না। পরিবারের সদস্যরা ব্রিটেনে আসতে শুরু করলে আবাসনের সংকট আরও প্রকট হয়। নতুন দেশে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয় নিরাপদে থাকার জায়গা খুঁজে পাওয়ার লড়াই।
বাসস্থানের জন্য পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয়
১৯৭০-এর দশকে পূর্ব লন্ডনের বাঙালি পরিবারগুলোর অন্যতম বড় সমস্যা ছিল সামাজিক আবাসন পাওয়া। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও অনেকে বাসা পাচ্ছিলেন না। নির্দিষ্ট সময় ধরে এলাকায় বসবাসের শর্তসহ নানা প্রশাসনিক নিয়ম নতুন অভিবাসীদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবার কোনো কোনো পরিবারকে এমন এলাকায় আবাসন দেওয়া হতো, যেখানে বর্ণবাদী হয়রানি ও হামলার আশঙ্কা ছিল।
এ পরিস্থিতিতে কিছু পরিবার পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নিতে শুরু করে। ইংরেজিতে এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘স্কোয়াটিং’। মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার জন্য অনেক পরিবারের কাছে এটি ছিল কার্যত বাধ্য হয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
এসব বাড়ির অবস্থা ছিল শোচনীয়। কোথাও ছাদ চুইয়ে পানি পড়ত, কোথাও দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগও অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ ছিল না। তার ওপর ছিল উচ্ছেদের ভয় এবং বর্ণবাদী গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কা।
আবাসনসংকটের এই অভিজ্ঞতা বাঙালিদের সংগঠিত হতে উৎসাহিত করে। ১৯৭৬ সালে গড়ে ওঠে বাংলাদেশি হাউজিং অ্যাকশন গ্রুপ। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল বাঙালি পরিবারগুলোর জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং আবাসনসংক্রান্ত বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা।
এই সংগ্রামে শুধু পুরুষেরা অংশ নেননি। পুরুষেরা পোশাক কারখানা ও রেস্তোরাঁয় কাজ করার সময় অনেক নারী ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করে আয় করতেন। পাশাপাশি সন্তানদের দেখাশোনা এবং পরিবারের আশ্রয়টুকু রক্ষা করার দায়িত্বও তাদের পালন করতে হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে নারীরাই সরাসরি প্রতিবাদ করেছেন।
বাঙালি অভিবাসীদের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা করেছেন শাবনা বেগম। তার ‘From Sylhet to Spitalfields: Bengali Squatters in 1970s East London’ বইয়ে মৌখিক সাক্ষ্য, ঐতিহাসিক নথি ও পারিবারিক স্মৃতির ভিত্তিতে উঠে এসেছে পূর্ব লন্ডনে বাঙালিদের বসতি গড়া এবং আবাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
বইটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে বাঙালিদের ইতিহাসকে শুধু অর্থনৈতিক উন্নতির কাহিনি হিসেবে দেখা হয়নি। বরং দেখানো হয়েছে, কীভাবে একটি অভিবাসী সম্প্রদায় প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।
বর্ণবাদী হামলা থেকে আলতাব আলীর মৃত্যু
আবাসনসংকটের পাশাপাশি বাঙালিদের জন্য বড় উদ্বেগ ছিল বর্ণবাদী সহিংসতা। ১৯৭০-এর দশকে পূর্ব লন্ডনে উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্টসহ বিভিন্ন বর্ণবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা অভিবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলেছিল। বাঙালিদের লক্ষ্য করে অপমান, ভয় দেখানো ও হামলার ঘটনা ঘটত। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পুলিশের কাছে গিয়েও অনেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উঠে এসেছে।
এমন পরিবেশেই ১৯৭৮ সালের ৪ মে নিহত হন আলতাব আলী। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হোয়াইটচ্যাপেলের অ্যাডলার স্ট্রিট এলাকায় বর্ণবাদী হামলায় তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
তার মৃত্যুতে বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসে। কারণ, আলতাব আলীর হত্যাকাণ্ডকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখেননি। তাদের কাছে এটি ছিল দীর্ঘদিনের বর্ণবাদী সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতারই আরেকটি ভয়াবহ পরিণতি।
১৪ মে হাজারো মানুষ আলতাব আলীর কফিনের পেছনে মিছিল করেন। হোয়াইটচ্যাপেল থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদী যাত্রা হাইড পার্ক হয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছায়। সেখানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্ণবাদী হামলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এই মিছিলের তাৎপর্য ছিল গভীর। বাঙালিরা দেখিয়ে দেন, তারা আর বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে চান না। একজন শ্রমিকের হত্যার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি তারা নিরাপদে বসবাস এবং সমান মর্যাদা পাওয়ার দাবি সামনে আনেন।
আলতাব আলীর মৃত্যুর প্রতিবাদে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অনেকেই ব্রিটেনে বেড়ে উঠেছিলেন। এই দেশকে তারা শুধু কাজের জায়গা নয়, নিজেদের ভবিষ্যতের ঠিকানা হিসেবে দেখতেন। ফলে বর্ণবাদী হামলা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবন ও অধিকারের ওপর আঘাত।
প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয় বৃহত্তর আন্দোলন
আলতাব আলী হত্যার প্রতিবাদ পূর্ব লন্ডনের বাঙালিদের আগে থেকে চলমান আবাসন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। বাঙালি পরিবারগুলো যখন নিরাপদ বাসস্থানের দাবি তুলছিল, তখন তারা মূলত একই প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছিল এই শহরে তাদের জায়গা কোথায়?
বাঙালি আবাসন আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিল ‘রেস টুডে’ গোষ্ঠী। ব্রিটেনের কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করা এই গোষ্ঠী বর্ণবাদবিরোধী প্রচার, আইনি পরামর্শ ও বাস্তব সহায়তার মাধ্যমে বাঙালি পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়। পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর আবাসনসংকটকে তারা বৃহত্তর সামাজিক বৈষম্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরে।
এই সহযোগিতা বাঙালি তরুণদের অন্য অভিবাসী ও বর্ণবাদবিরোধী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির সুযোগ করে দেয়। ফলে পূর্ব লন্ডনের আবাসন আন্দোলন বৃহত্তর অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হয়।
তবে আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে সবার মধ্যে পুরোপুরি একমত ছিল না। বাঙালি পরিবারগুলোর কাছে প্রথম প্রয়োজন ছিল নিরাপদ ও স্থায়ী বাসস্থান। অন্যদিকে, বৃহত্তর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিছু কর্মী মনে করতেন, শুধু কিছু পরিবারকে আবাসন দেওয়াই যথেষ্ট নয়; প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যেরও পরিবর্তন দরকার।
এই পার্থক্য সত্ত্বেও আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বাঙালি সম্প্রদায়ের সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। তারা বুঝতে পারেন, নিজেদের দাবি তুলে ধরতে হলে একসঙ্গে কাজ করা এবং বৃহত্তর সমাজের সমর্থন অর্জন করা জরুরি।
সিলেটের অভিবাসন বদলে দেয় যে ইতিহাস
ব্রিটেনে সিলেটি অভিবাসীদের জীবনকে কেবল প্রবাসী আয়, রেস্তোরাঁ ব্যবসা কিংবা অর্থনৈতিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায় না। তাদের ইতিহাসে রয়েছে শ্রমের কঠিন বাস্তবতা, পরিবারের জন্য ত্যাগ, বাসস্থানের অনিশ্চয়তা এবং বর্ণবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ।
প্রথম প্রজন্মের অনেক অভিবাসীর কাছে ব্রিটেনে যাওয়া ছিল অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ। তারা কাজ করেছেন, দেশে অর্থ পাঠিয়েছেন এবং একসময় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। তাদের সন্তানদের একটি বড় অংশের কাছে ব্রিটেন হয়ে ওঠে স্থায়ী ঠিকানা। এই প্রজন্মের তরুণেরা স্থানীয় রাজনীতি, সামাজিক সংগঠন ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় হতে শুরু করেন।
পূর্ব লন্ডনের বাঙালি সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান গড়ে ওঠার পেছনে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এই পরিবর্তন রাতারাতি আসেনি। এর পেছনে ছিল বহু বছরের শ্রম, সংগঠন, প্রতিবাদ ও নিজেদের জায়গা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
আলতাব আলী হত্যাকাণ্ড সেই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার মৃত্যুর পর হাজারো মানুষের প্রতিবাদ দেখিয়েছিল, একটি সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত অন্যায়কে উপেক্ষা করা কঠিন, যখন মানুষ সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
লন্ডনের যে স্থানে আলতাব আলী নিহত হয়েছিলেন, সেই স্থান পরে তার স্মরণে আলতাব আলী পার্ক নামে পরিচিত হয়। ১৯৯৮ সালে সেন্ট মেরিস গার্ডেনসের নাম পরিবর্তন করে আলতাব আলী পার্ক রাখা হয়। পার্কটি এখন পূর্ব লন্ডনের বাঙালি সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। সেখানে নির্মিত শহীদ মিনার বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকেও ব্রিটেনের বাঙালি সমাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
আজকের পূর্ব লন্ডনে বাঙালিদের উপস্থিতি শুধু একটি অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি গড়ার ইতিহাস নয়। এটি দেখায়, কীভাবে কাজের সন্ধানে অন্য দেশে যাওয়া মানুষ পরবর্তী সময়ে সেই সমাজের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠেন।
সিলেট থেকে লন্ডনে যাওয়া মানুষেরা নতুন দেশে নিজেদের জীবন গড়েছেন। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সেই সমাজে সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও অংশ নিয়েছে। সেই পথচলায় আলতাব আলীর নাম স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রবাসের ইতিহাসে সাফল্যের পাশাপাশি রয়েছে ত্যাগ, বঞ্চনা ও প্রতিরোধের অধ্যায়।
আলতাব আলীর মৃত্যু থামানো যায়নি। কিন্তু তার হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসা মানুষ ব্রিটেনের বাঙালি ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করেছিলেন। তাদের সেই প্রতিবাদ ছিল নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার, বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নতুন সমাজে নিজেদের জায়গা প্রতিষ্ঠার দাবি।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
