শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজনের ঘটনায় বাবা সিরাজ দর্জিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া বিয়ের জন্য বয়স বেশি দেখিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহে প্রভাবিত করার অভিযোগে পাত্রের ভাই আসলাম উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডামুড্যার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমান।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া ইসলাম সায়মা নামে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিয়ে উপলক্ষে খাবারের আয়োজন এবং বর-কনেকে বিয়ের সাজে দেখা যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন না করেই অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।
এ সময় কিশোরীর বাবা সিরাজ দর্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, মেয়ের নামে দুটি জন্মনিবন্ধন সনদ রয়েছে। একটিতে জন্ম তারিখ ১৫ মার্চ ২০১০ এবং অন্যটিতে ১৫ মার্চ ২০০৮ উল্লেখ করা হয়েছে। সনদ দুটিতে অন্যান্য তথ্য একই থাকলেও নামের আগে ‘মোসাম্মৎ’ শব্দটির ব্যবহারে পার্থক্য রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজ দর্জি স্বীকার করেন, মেয়ের বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে জনৈক মো. আল-আমিনের সহযোগিতায় ২০০৮ সালের জন্মতারিখ উল্লেখ করা সনদটি সংগ্রহ করেছেন। অনলাইনে যাচাই করে জন্মনিবন্ধনের সার্ভারে উভয় সনদের অস্তিত্ব পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে উপজেলা ভূমি কার্যালয়।
এছাড়া পাত্রের ভাই আসলাম উদ্দিন তাকে নতুন জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহে প্রভাবিত করেছেন বলে জানান সিরাজ দর্জি।
সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন না হলেও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহের ঘটনায় সিরাজ দর্জিকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, তাকে প্রভাবিত করার অভিযোগে আসলাম উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা নাহিয়ান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ লিটন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
জব্দ করা জন্মনিবন্ধন সনদগুলো মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণের জন্য প্রসিকিউশন প্রদানকারী কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
