কালবেলা · সাধারণ
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ: ভিডিও ধারণের জেরে হামলা, আহত ৭
২২/১০/২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মরিচ ক্ষেতে পানি দেওয়ার সময় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের সাতজন আহত হয়েছেন।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মোবাইলে ভিডিও করতে নিষেধ করায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ ৭ জন আহত হন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বালুগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালুগ্রাম গ্রামের আব্দুর রশিদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী শাহ আলমের পরিবারের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন আব্দুর রশিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের মরিচ ক্ষেতে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় শাহ আলমের স্ত্রী সেখানে গিয়ে মুঠোফোনে তাদের ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। হঠাৎ ভিডিও ধারণ করার কারণ জানতে চেয়ে আব্দুর রশিদের পরিবারের লোকজন বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার জেরে শাহ আলমের পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুর রশিদের পরিবারের ওপর হামলা চালান। হামলায় আব্দুর রশিদের পরিবারের সাতজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে রুস্তম আলী (৩৫) ও আলমাস আলী (৩৫) ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নূর ইসলামের (২২) শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- শাহ আলম, সোনা মিয়া, আকরাম হোসেন, আমজাদ আলী, হযরত আলী, রাজা মিয়া, আক্তার হোসেন, আব্দুল্লাহ, শাকিল মিয়া, বাবু মিয়া, ফকির আলী, আকিত মিয়া, হুনুয়া বেগম, শাহানা বেগম ও ধুলি বেগম।
মামলার বাদী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘হামলাকারীরা কেবল আমাদের মারধরই করেনি, মরিচ ক্ষেতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে চারা ভেঙে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। এখন মামলা করার পর থেকে সেটি তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মামলা প্রত্যাহার না করলে খুন-জখমের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।’
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ ও হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗