‘আন্তঃসংযুক্তি’ বোঝাতে প্রথম ‘ইন্টারনেটেড’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছিল ১৮৪৯ সালে। এরপর ‘ইন্টারনেট’ কথাটির প্রচলনেতিহাস পাওয়া যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা দফতরের রেডিও অপারেটিংয়ের কাজের লব্ধ রূপে। ১৯৭৪-এ ‘ইন্টারনেটওয়ার্ক’ কথাটির চুম্বক-শব্দ হিসাবে ‘ইন্টারনেট’ ব্যবহৃত হতে থাকে। বলা বাহুল্য, অর্থ বদলায়নি। আন্তঃযোগাযোগ ও আন্তঃসংযুক্তির বহতা ধরা ছিল প্রতিবার। এখন ইন্টারনেট কথাটি জলভাতের মতো প্রযুক্ত হয়।
পরস্পর-সম্পৃক্ত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বোঝাতে। বর্তমানে প্রায় ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটির বেশি মানুষ আবিশ্বে ইন্টারনেটের উপভোক্তা, যা দুনিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ। ‘টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’-র ২০২৬ সালের জুন মাসের প্রদেয় তথ্য অনুসারে, ১১১ কোটির বেশি ভারতীয় দৈনন্দিনের নানা দরকারে ইন্টারনেট পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। কাজেই ‘শখের বস্তু’ বলে আর ইন্টারনেট-কে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। গত শতকের নয়ের দশকে ইন্টারনেট ছিল ‘নিশ’। নতুন শতকের গোড়ার দশকে তা হাত মেলায় স্মার্টফোন ও সামাজিক মাধ্যমের সঙ্গে। তবে ব্যবহারিক প্রয়োগটি হালকাফুলকা ছিল। সিকি শতাব্দী অতিবাহিত হতে না হতে তা হয়ে উঠল ইন্দ্রজালের মায়া। ইন্টারনেটে আমরা শিখছি, জানছি, বিনির্মাণ ঘটাচ্ছি কাজের। আন্তঃসংযুক্তির এক নব বয়ান তৈরি করছি নিয়ত।
বর্তমানে প্রায় ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটির বেশি মানুষ আবিশ্বে ইন্টারনেটের উপভোক্তা, যা দুনিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ।
এ মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ যে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করে, তারই অব্যবহিত প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীর কিছু স্থানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবশ্য এ ঘটনায় অসন্তোষ ও উষ্মা ব্যক্ত করেছে। সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়া অন্যতম মৌলিক অধিকার।
২০২০ সালে অনুরাধা ভাসিন বনাম ভারত ইউনিয়ন মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) এবং ১৯(১) (ক) অনুচ্ছেদের (বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার) অধীনে ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা অন্যতম মৌলিক অধিকার।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ যে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করে, তারই অব্যবহিত প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীর কিছু স্থানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়।
সম্প্রতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে. ভি. চন্দ্রনের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ বলছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা বিষয় দু’টি আলাদা বা সাংঘর্ষিক নয়; শিশুরা দু’টি পাওয়ারই অধিকারী। তাই সুরক্ষার লড়াই হওয়া উচিত ক্ষতিকারক কনটেন্ট প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে। দুই বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে অনলাইনে শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও অপব্যবহারের (CSEAM) কনটেন্ট রোধ সংক্রান্ত মামলায়। ফিনল্যান্ড ২০০৯ সালে ব্রডব্যান্ডকে মৌলিক অধিকারের আওতায় আনে। সে বছর ফ্রান্স-ও বাকস্বাধীনতা ও যোগাযোগ-রক্ষার প্রশ্নে ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার বলে মেনে নেয়। আমাদের দেশ এ-পথে হাঁটছে সময়ের দাবি মেনেই। এই পদ-ছাপ অক্ষয় হোক।
