শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে ওয়ানডেতে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আগা। পাঁচ নম্বর কিংবা তার পরের পজিশনে ব্যাটিং করে পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক এখন তিনি। রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে এই কীর্তি গড়েন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
সালমানের সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথমে ব্যাট করে ৩০৫ রান তোলে পাকিস্তান। পরে শ্রীলঙ্কাকে ২৬৮ রানে অলআউট করে ৩৭ রানের জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। এই সিরিজে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে অংশ নিচ্ছে ইংল্যান্ডও।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৯০ বলে ১০৭ রান করেন সালমান। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি ছক্কা। একদিকে দলের বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন, অন্যদিকে রানের গতি সচল রেখে পাকিস্তানকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিয়েছেন তিনি।
পেছনে ফেললেন মোহাম্মদ ইউসুফকে
বিজ্ঞাপন
ওয়ানডেতে পাঁচ নম্বর কিংবা তার নিচের পজিশনে ব্যাটিং করে পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত চারটি সেঞ্চুরি করেছেন সালমান আগা। এই তালিকায় তার পেছনে রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফ। পাঁচ বা তার নিচের পজিশনে ব্যাটিং করে ইউসুফের সেঞ্চুরি তিনটি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতক হাঁকিয়ে এককভাবে রেকর্ডটির শীর্ষে উঠে এসেছেন সালমান। তার এই কীর্তি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে নিচের দিকে নেমেও দলের জন্য বড় অবদান রাখার সক্ষমতারই প্রমাণ।
ম্যাচের শুরুতে পাকিস্তান যখন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল, তখনই ব্যাট হাতে দলের হাল ধরেন সালমান। তার দায়িত্বশীল ইনিংস শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে তিনশ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনেই বাজিমাত
সালমানের এই সেঞ্চুরির গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই এমন পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। গত আগস্টের পর পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেননি এই ডানহাতি ব্যাটার।
বিজ্ঞাপন
এর মধ্যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট দল থেকে জায়গা হারানোর পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত সংস্করণে অধিনায়কত্বও হারান তিনি। একের পর এক ধাক্কা সামলে আবারও জাতীয় দলে নিজের অবস্থান শক্ত করার চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর সামনে।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যর্থতা বা দল থেকে বাদ পড়ার হতাশায় ভেঙে না পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগ দেন সালমান। সেখানে নিয়মিত রান করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি নিজের ব্যাটিংয়ের কারিগরি দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরির মাধ্যমে সেই প্রস্তুতিরই প্রতিফলন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরলেন সালমান
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর নিজের সাফল্যের পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন সালমান। তার মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা যখন নিজেদের ফর্ম ফিরে পেতে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলেন, তখন তাদের পারফরম্যান্সকে অবহেলা করা উচিত নয়।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সালমান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটকে যথেষ্ট সম্মান দিই না।’
বিজ্ঞাপন
জাতীয় দলে ফেরার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ প্রতিযোগিতায় কিংসমেনের হয়ে খেলতে নেমে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অপরাজিত ট্রিপল সেঞ্চুরি করেন সালমান। পরের মাসের শেষের দিকেও আরেকটি সেঞ্চুরি করেন তিনি।
পাঁচটি ঘরোয়া ম্যাচে এই ধারাবাহিক রান তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে পাওয়া আত্মবিশ্বাসই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ইনিংসে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইএইচএস/
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
