আজকাল ওয়েবডেস্ক: দশমীর পর প্রতিমা নিরঞ্জন শেষে ধুলিয়ান পুরসভা এলাকায় আয়োজিত দুর্গাপুজোগুলোর প্রতিমা এবং পুজো মণ্ডপের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানাধিকারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গণ্ডগোলের সৃষ্টি হল ধুলিয়ান কাঞ্চনতলা ঘাটে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলাকালীনই দর্শক আসনে চেয়ার ভাঙচুর করলেন একটি ক্লাবের কয়েকজন সদস্য। তাঁদের অভিযোগ পুরসভা কর্তৃপক্ষ এবং বিচারকরা ভাল পুজো উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্লাবকে পুরস্কার 'পাইয়ে' দিয়েছেন। দর্শক আসনে ভাঙচুর চলাকালীন সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।
যদিও গোটা ঘটনাটিকে অত্যন্ত 'ছোট' বলে দাবি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। এই ঘটনায় আজ সকাল পর্যন্ত কেউ আটক বা গ্রেপ্তার হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ধুলিয়ান পুরসভায় ক্ষমতা পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী চেয়ারম্যান ইনজামামুল ইসলামকে অনাস্থা ভোটে পরাজিত করে ঋতব্রত তৃণমূল পন্থী আনোয়ার শাহদাত নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে বিচারকদের মাধ্যমে ধুলিয়ান পুরসভা এলাকায় এবছর কয়েকটি ক্লাবকে বিজয়ীর পুরস্কার পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ গঙ্গা নদী বক্ষে ভাসানের পর কাঞ্চনতলা ঘাটে ধুলিয়ান পুরসভা এলাকার আয়োজিত বিভিন্ন পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কৃত করা হয়। সেরার সেরা প্রতিমার পুরস্কার পেয়েছে ধুলিয়ানের নবদিশা ক্লাব। সূত্রের খবর, এই বিভাগে এবার পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে অন্যতম দাবিদার ছিল ধুলিয়ান ঝঙ্কার ক্লাব। অভিযোগ উঠেছে ,পুরস্কার না পেয়ে ওই ক্লাবের কিছু সদস্য দর্শক আসনে থাকা চেয়ার তুলে ফেলে ভাঙচুর চালাতে শুরু করেন। যদিও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি।
পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ঝঙ্কার ক্লাবের কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে এবং রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পক্ষপাতিত্ব ভাবে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, ধুলিয়ান পুরসভা আয়োজিত বিভিন্ন বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার দেওয়ার জন্য এবার পুরসভার প্রতিনিধি ছাড়াও এলাকার বিশিষ্ট কয়েকজন মানুষকে নিয়ে বিচারক মন্ডলী তৈরি করা হয়েছিল। তাঁরাই এবার কোন বিভাগে কে পুরস্কার পাবে তা নির্ধারণ করেছেন।
ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান আনোয়ার শাহদাত বলেন, "সকলেই চায় প্রতিযোগিতায় কোনও স্থান অধিকার করতে, কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। কিছু বাচ্চা ছেলে পুরস্কার না পেয়ে এই কাজ করেছে। আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনও অভিযোগ করছি না।"
সামশেরগঞ্জের বিজেপি নেতা মিলন ঘোষ বলেন, "ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের এক আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। গতকাল প্রশাসন খুব ভালভাবে সবকিছু সামলে দিয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে সকলেই প্রথম হতে পারেন না, বিচারকরা বিচার করে বিভিন্ন বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানাধিকারী নির্বাচন করেছেন। যারা পুরস্কার পায়নি তারা যেন হাল ছেড়ে না দেয়, আগামী বছরের জন্য চেষ্টা করেন।"
তিনি বলেন, "গতকাল রাতে দর্শক আসনে কিছু উত্তেজিত যুবক ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে বিষয়টিকে আমরা বড় করে দেখছি না। তাঁরা উত্তেজনার বশে এই কাজ করে ফেলেছে। উৎসবের আবহে আমরা বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে চাইছি না।"
