এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ার অন্যতম কারণ গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বলতা বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা গণিত ও ইংরেজিতে ভালো হলে এসএসসি পরীক্ষার ফল আরও ভালো হতো।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) সম্মেলন কক্ষে খান একাডেমি বাংলাদেশের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বগুড়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজারের ১০০টি স্কুলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী খান একাডেমি বাংলাদেশের গণিতভিত্তিক ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এ উদ্যোগ সম্প্রসারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খান একাডেমি সাজিদা ফাউন্ডেশনের অংশীদারত্বে এর আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, নরসিংদী, চাঁদপুর ও পঞ্চগড়ের ১১৫টি স্কুলে শিক্ষক-কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে গণিতের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নতুন করে বগুড়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজারের আরও ১০০টি স্কুলে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হলো।
সাজিদা ফাউন্ডেশন খান একাডেমি বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু করে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ২১ হাজার স্কুলে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) এক গবেষণায় দেখা গেছে, খান একাডেমির পাইলট প্রকল্পের আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীদের গাণিতিক দক্ষতা নয় গুণ বেড়েছে। পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে ছয় গুণ এবং অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতা বেড়েছে ৭০ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা ড. সরদার মো. কেরামত আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শাহ শামীম আহমেদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন খান একাডেমি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজওয়া নাঈম। অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বগুড়ার নির্বাচিত ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বগুড়াকে নতুন তিন জেলার একটি হিসেবে নির্বাচন করায় খান একাডেমি ও সাজিদা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা ড. সরদার মো. কেরামত আলী বলেন, সারা দেশে খান একাডেমির কার্যক্রম সম্প্রসারণে মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। এ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণি উত্তরণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। এর অন্যতম কারণ গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বলতা। খান একাডেমি যেসব এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং গণিতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করছে।
তিনি বলেন, দেশের সব স্কুল ও জেলায় খান একাডেমির কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে মাধ্যমিক পর্যায়ে অকৃতকার্য হওয়ার হার ৫০ শতাংশ কমে আসবে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র বদলে যাবে।
সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, খান একাডেমি বাংলাদেশের উদ্যোগ দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের জোরালো সমর্থন এবং জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।
