গ্যাস সিলিন্ডার, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৮৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৩১ জেলায় ৪৬টি দল এসব অভিযান চালায়।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা এবং মজুতদারি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়ের বাজারেই তদারকি করা হয়েছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না এবং ওজন ও পরিমাপে কারচুপি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয় অভিযানে। এছাড়া, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিষয়েও নজরদারি করা হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে সঠিক মূল্যতালিকা টাঙানো, নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অবৈধভাবে পণ্য মজুত, কৃত্রিম সংকট তৈরি ও ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্যও সতর্ক করা হয়।
বাজার তদারকির পাশাপাশি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে লিফলেট ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। একইসঙ্গে পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই এবং কেনাকাটার রসিদ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
পণ্য কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়, প্রতারণা বা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
