বাবার দেখা স্বপ্ন ছিল গ্রামের রাস্তাঘাট অন্ধকারমুক্ত করা, মানুষের চলাচল নিরাপদ করা। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে উদ্যোগ নিয়েছেন ছেলে রঘুপতি সেন। বাবার স্মৃতি ও আদর্শকে ধারণ করে নেপাল-মঞ্জু ফাউন্ডেশনের ‘আলোকায়ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কৈনপুরা গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে ১২৫টি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সোলার স্ট্রিট লাইট। এতে সন্ধ্যা নামতেই আলোর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কৈনপুরা অগ্রণী সংঘ প্রাঙ্গণে দুর্গাপূজার মাতৃবোধন লগ্নে ‘আলোকায়ন’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রয়াত নেপাল চন্দ্র সেনের সহধর্মিণী মঞ্জুরানী সেন।
নেপাল চন্দ্র সেন ছিলেন কৈনপুরা গ্রামের একজন সমাজসেবক। মাটি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে গ্রামের মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ছেলে রঘুপতি সেন নেপাল-মঞ্জু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গ্রহণ করেন ‘আলোকায়ন’ প্রকল্প।
প্রকল্পের আওতায় বড় উঠান রাস্তার মোড় থেকে কৈনপুরা-মহতর পাড়া হয়ে চাতরী আংশিক ব্রিজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে ১২৫টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন মন্দির ও মসজিদের সামনেও আলোকসজ্জার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে স্থাপন করা সোলার লাইট সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আলো ছড়াচ্ছে। এতে রাতের অন্ধকারে চলাচলের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বাড়ছে। সূর্যের আলো থেকে শক্তি সঞ্চয় করে এসব বাতি জ্বলে ওঠায় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতাও কমছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই আলোকায়নের ফলে রাতের বেলায় মানুষের চলাচল আরও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে সড়কের মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আলোকিত থাকায় অপরাধপ্রবণতা কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে উদ্যোগটি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাবু মিহির পালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। এ সময় বাবু তাপস হোড়, অ্যাডভোকেট রাজীব কুমার চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির চৌধুরী আনসার ও আকতার নবীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, গ্রামকে আলোকিত করার স্বপ্ন ছিল নেপাল চন্দ্র সেনের। তাঁর ছেলে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের মাধ্যমে বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। গ্রামকে আলোকিত করার পাশাপাশি দেশ ও রাষ্ট্রের জন্যও এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এ জন্য তিনি উদ্যোক্তা রঘুপতি সেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে গ্রামকে আলোকিত করার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।
বাবার স্বপ্নের আলোয় বড় উঠান-কৈনপুরা-মহতর পাড়া সড়ককে নিরাপদ, সুন্দর ও আলোকিত করে তোলাই উদ্যোক্তা রঘুপতি সেনের প্রত্যাশা। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
The post বাবার স্বপ্ন পূরণে ১২৫ সোলার লাইট, আলোকিত আনোয়ারার গ্রামীণ জনপদ appeared first on বাংলাধারা.
