রাস্তায় চলতে গিয়ে কিংবা বাড়ির আশপাশে কুকুরের শরীর গায়ে বা কাপড়ে লেগে যেতে পারে। এ অবস্থায় শরীর বা কাপড় নাপাক হয়ে যায় কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সাধারণভাবে কুকুরের শরীর বা পশম স্পর্শ করলেই মানুষের শরীর কিংবা কাপড় নাপাক হয়ে যায় না। তবে কুকুরের লালা লাগার ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন।
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কুকুরের শরীর বা পশম গায়ে কিংবা কাপড়ে লাগলেই তা নাপাক হয়ে যায়—এমন নয়। শরীর ও পশম শুকনো থাকলে সাধারণভাবে নাপাকির প্রশ্ন আসে না। তবে ভেজা অবস্থায় স্পর্শ হলে এবং কোনো নাপাকি এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষে স্থানান্তরিত হলে বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
কুকুরের লালা সম্পর্কে ফিকহবিদদের মধ্যে বিধানগত মতভেদ রয়েছে। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কুকুরের লালা নাপাক। তাই লালা শরীর বা কাপড়ে লাগলে আক্রান্ত স্থান পবিত্র করতে ধুয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে, কুকুরের পাত্রে মুখ দেওয়ার পর তা সাতবার ধোয়ার বিষয়ে সহিহ হাদিস রয়েছে। তবে এই বিধান শরীর বা কাপড়ে লালা লাগার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা নিয়ে মাজহাবভেদে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে ভালোভাবে তিনবার ধুয়ে নিতে হবে। এতে কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘কুকুর যদি কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তাহলে সেই পাত্রের জিনিস ফেলে দিয়ে তিনবার ধুয়ে নাও।’ (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ১৯৬)
কুকুরের শরীরে যদি আলাদাভাবে কোনো নাপাকি লেগে থাকে এবং তা স্পর্শের মাধ্যমে শরীর বা কাপড়ে স্থানান্তরিত হয়, তাহলে আক্রান্ত স্থান পবিত্র করতে হবে। শুধু কুকুরের শরীর স্পর্শ করার কারণে নাপাকির সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
শুধু কুকুরের শরীর গায়ে লাগলে সাধারণভাবে গোসল করা বা কাপড় পরিবর্তন করা জরুরি নয়। তবে লালা কিংবা অন্য কোনো নাপাকি লাগলে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করতে হবে।
ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) বলেছেন, ‘কোনো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে পাত্রটি এ পরিমাণ ধুয়ে নেবে, যাতে তা পরিপূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা: ১৮৪৩)
অবশ্য বিভিন্ন হাদিসে এ ক্ষেত্রে সাতবার ধোয়ার কথাও এসেছে। তাই সাতবার ধুয়ে নিলে উত্তম হবে। এ ক্ষেত্রে সম্ভব হলে সঙ্গে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা আর পাত্র হলে তাতে মাটি ব্যবহার করাও উত্তম হবে। (শরহুল মুনইয়া, পৃষ্ঠা: ১৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৪)
