প্রতীকী ছবি।ছবি সৌজন্যে: AI
Published on
:
2 min read
ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF)। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী গতির উপর ভরসা রেখেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ছবির অন্য দিকও রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, অশোধিত তেলের দাম উচ্চ থাকা এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ভারতের বৃদ্ধির পথে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
FY27 ও FY28-এ কত বৃদ্ধির পূর্বাভাস?
IMF-এর অক্টোবরের World Economic Outlook অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের GDP বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষের পূর্বাভাসও ৬.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে।
IMF-এর মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা, পরিষেবা ক্ষেত্রের কার্যকলাপ এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক গতি এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অনুকূল জনসংখ্যার কাঠামো, বড় ও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ধারাবাহিক সংস্কারও ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে।
চড়া তেলের দামই বড় ঝুঁকি
ভারত প্রয়োজনীয় অশোধিত তেলের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে আমদানির খরচ বাড়বে। এর ফলে টাকার উপর চাপ তৈরি হতে পারে। পরিবহণ, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচও বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের খরচে এবং মূল্যবৃদ্ধিতে। IMF-এর ২০২৬ সালের জন্য গড় তেলের দামের অনুমান ব্যারেলপিছু ৯৫.৭৪ ডলার। ২০২৭ সালে তা কমে ৮৭.৩৯ ডলার হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস
বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির পূর্বাভাসও জুলাইয়ের ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০২৬ সালে ৩.১ শতাংশ করেছে IMF। ২০২৭ সালে বৃদ্ধির হার ৩.৪ শতাংশ হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-তে বিনিয়োগ এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ব বৃদ্ধিকে কিছুটা সাহায্য করছে। তবে ২০২৫ সালের ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় ২০২৬ সালের পূর্বাভাস এখনও কম।
IMF সতর্ক করেছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং তেলের দাম আরও বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়তে পারে। AI-তে বিপুল বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল না মিললেও অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে। সংস্থাটির মতে, বিশ্ব বৃদ্ধির সুফলও সব দেশে সমান ভাবে পৌঁছচ্ছে না।
অর্থাৎ, ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়লেও ঝুঁকি কাটেনি। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অর্থনীতিকে শক্তি দিচ্ছে। কিন্তু আগামী দিনে সেই গতি কতটা বজায় থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর।
