জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডের শুরুতে দাপট দেখান বোলাররা। গতকাল দ্বিতীয় দিনটা ছিল ব্যাটারদের। বরিশালের বিপক্ষে একদিনে ৪০০ রান করে রাজশাহী। দলটির ব্যাটার নাঈম আহমেদ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিন অঙ্কের দেখা পান। অপেক্ষায় রয়েছে ডাবল সেঞ্চুরির। রংপুর, খুলনা ও চট্টগ্রামের একাধিক ব্যাটসম্যানও ফিফটির দেখা পেয়েছেন। একই দিনে বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের ‘ডাবল’ এর কীর্তি গড়েন শুভাগত হোম।
চার উইকেটে ২২৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল ময়মনসিংহ। শুরুতেই ধাক্কা খায় দলটি। ১ রান যোগ করতেই আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মাহফিজুল ইসলাম (১১৬) ও রিজান হোসেন (৪৪) ফিরে যান। ২৩২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ঢাকার বিপক্ষে বড় বিপদে পড়ে যায় তারা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন শুভাগত হোম ও অধিনায়ক রাকিবুল হাসান। অষ্টম উইকেটে দুজনে যোগ করেন ১২৮ রান। শুভাগত করেন ৭১, রাকিবুল ৬১। ময়মনসিংহ অলআউট হয় ৩৮৭ রানে। ৭০ রানের মাথায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান পূর্ণ করেন শুভাগত। এর আগে তিনি ৩০০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন। ফলে এই দুই মাইলফলকের ‘ডাবল’ পূর্ণ করা বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় তিনি। ঢাকার হয়ে লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম নেন ৪ উইকেট, সুমন খান ৩টি। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ১২০ রান তুলেছে ঢাকা। অধিনায়ক মোহাম্মদ নাঈম ৬৪ রানে অপরাজিত। দল ২৬৭ রানে পিছিয়ে। রাজশাহীর কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের গল্প নাঈম আহমেদের। প্রথম দিন বরিশালকে ২২৯ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল স্বাগতিকেরা। ২৪ রানে ১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে তারা। এক দিনে যোগ করে ৪০০ রান, হারায় ৪ উইকেট। দিন শেষে স্কোর ৫ উইকেটে ৪২৪। লিড ১৯৫ রানের। ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ২৩৩ বলে ২৫ চারে অপরাজিত ১৭৬। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। চতুর্থ উইকেটে সাব্বির রহমানের সঙ্গে ১৫২ রানের জুটি গড়েন নাঈম। সাব্বির করেন ৮৬।
মিম-আকবরের ছন্দ, সিলেটের জবাব
রংপুর ওপেনার মিম মোসাদ্দেক এই আসরে টানা তৃতীয় ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করেন। প্রথম ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে করেছিলেন ৬০, দ্বিতীয় ম্যাচে ময়মনসিংহের বিপক্ষে ১৫৭। এবার সিলেটের বিপক্ষে ৫৯। আগের দুই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি পাওয়া অধিনায়ক আকবর আলী এবার প্রথম ইনিংসে খেলেন ৭৪ রানের ইনিংস। তবু বড় সংগ্রহ হয়নি রংপুরের। চট্টগ্রামে ১ উইকেটে ৩২ নিয়ে দিন শুরু করা দলটি অলআউট হয় ২০৬ রানে। ২৭ রানের লিড পায় তারা। সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ ৩৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁন তিনি। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৩৪ রান তুলেছে সিলেট।
আফিফে ভর করে এগুচ্ছে খুলনা
সিলেটে খুলনা-চট্টগ্রাম ম্যাচে দ্বিতীয় দিন শেষে এগিয়ে খুলনা। ৩ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে দিন শুরু করা চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৫০ রানে। তিন ব্যাটসম্যান ফিফটি করেন। শাহাদাত হোসেন ৫০, ইরফান শুক্কুর ৫৯, শামীম হোসেন ৫১। খুলনার অফ স্পিনার শেখ পারভেজ নেন ৪ উইকেট, সামিউন বাসীর ৩টি। প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানের লিড নিয়ে চট্টগ্রামের মাঠে নামলেও খুলনা দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায়। দিন শেষে ৬ উইকেটে ১৬১ রান তুলে ১১২ রানে এগিয়ে তারা। আফিফ হোসেন অপরাজিত ৫৮ রানে।
