অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা দিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন।
সোমবার দুপুর পৌনে ১টায় কয়েকশত নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রবেশ করেন।
এসময় ইশরাক সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকেন– ‘রাজপথের ইশরাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’; ‘রাজপথের ইশরাক ভাই, তোমার কোনো ভয় নাই’; ‘ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’।
শনিবার বিকালে নিজের ফেইসবুক পেইজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন।
একটি ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর এ অভিযান ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরদিন ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। স্থানীয় ডিসিকে বলা হয়েছে, তিনি পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেবেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে ডিএমপি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
এরপর রোববার রাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশারককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর খোদ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে ফেইসবুকে শেয়ার করতে দেখা যায়।
সোমবার সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে ফেইসবুক পোস্টে ইশরাক বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিতে তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন।
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক ফেইসবুকে লেখেছেন, “আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।”
খেদ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, “ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম।
“আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।”
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক বলছেন, “এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।
“পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব।
“মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল!
মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!”
