সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং এগ্রিমেন্ট একত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে।’
বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস (বেইজিং এগ্রিমেন্ট)’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এ ঘোষণার পাশাপাশি চীনের সহায়তায় বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, যৌথ ২+২ ও ৩+১ মডেলের কারিগরি শিক্ষাক্রম চালু এবং যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।
গতকাল চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এ বৈশ্বিক কাঠামো প্রকাশ ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বৈশ্বিক কাঠামো সমর্থনকারী দেশগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে সমাপনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সমাপনীর যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি সম্মেলনে ‘চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র’, ‘লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) সহযোগিতা এগিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি দলিল উন্মোচন করা হয়।
বেইজিং এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের সমর্থন ও সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মানদণ্ড গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং এগ্রিমেন্ট একত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে।’
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বকে আরো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা আশাবাদ প্রকাশ করেন।
এ দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির আওতায় দুই দেশ অগ্রাধিকারমূলক ছয়টি সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করবে। এর অধীনে চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, শিক্ষাদান পদ্ধতি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌথ ২+২ এবং ৩+১ মডেলের কারিগরি একাডেমিক কর্মসূচি চালু করা হবে। এছাড়া দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধার পাশাপাশি স্মার্ট শ্রেণীকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে। উদ্যোগটির মাধ্যমে একদিকে চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশী কারিগরি শিক্ষার্থীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা বৃত্তির সুযোগ আরো সম্প্রসারিত করা হবে।
চুক্তি বাস্তবায়নে চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি এবং অন্যান্য প্রদেশের খ্যাতনামা কারিগরি ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার মূল বাস্তবায়নকারী অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
