পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের নতুন চালান পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৩ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে জ্বালানি বুঝে নেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার ভোরে তিনটি লরিতে করে জ্বালানি বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
জ্বালানি পরিবহনের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে সড়কপথে জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো রূপপুরে নেওয়া হয়। এসময় মহাসড়কে যানজট এড়াতে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আজ দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানির আরেকটি চালান আনা হয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও আটটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরও চারটি চালানে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপন করা হয়।
প্রায় দেড় বছর পর প্রথম ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য চলতি মাসের ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান রূপপুরে আনা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শেষ হলেও বিভিন্ন জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে।
চলতি মাসে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন (সেফটি) ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর ভালভটির তৃতীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে বায়রার অনুমোদনের পর ১১ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
শেখ মহসীন/এফএ/এএসএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
