মেহেরপুর শহরের নতুন পাড়ায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে মোশারফ হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে মেহেরপুর শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ার নুরুদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিজ বাড়িতে কাজ করছিল। এ সময় মোশারফ হোসেন ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ছাত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
পরে সন্ধ্যায় ঘরে মোবাইল ফোনের রিংটোন শুনে ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন ফোনটি উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর মোশারফ এসে ফোনটি নিজের বলে দাবি করে নিয়ে যান। এরপর মেয়ের বারবার বাথরুমে যাওয়া-আসা দেখে সন্দেহ হলে মা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন ছাত্রী তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায়। পরে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর জিআর ১১২/২০২৫ এবং শিশু নির্যাতন মামলা নম্বর ২৬/২০২৬।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর পারভীন সুলতানা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপদে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে এ ধরনের রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এমএস/
