ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সপ্তাহান্তে ব্যাপক বিক্ষোভের আশঙ্কায় প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও লিঁওর মধ্যকার ফরাসি লিগের ম্যাচ এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববারের পরিবর্তে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সোমবার সন্ধ্যায়। শুক্রবার ফরাসি লিগ কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
সূচি অনুযায়ী, ম্যাচটি রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশের অনুরোধে তা পরিবর্তন করে সোমবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্যারিসের পশ্চিমাঞ্চলে পিএসজির মাঠ পার্ক দে প্রাঁসে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
ফরাসি লিগ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘রোববার প্যারিস সাঁ-জার্মেই ও অলিম্পিক লিঁওর মধ্যকার ম্যাচ আয়োজন নিষিদ্ধ করে পুলিশ প্রশাসনের জারি করা নির্দেশের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি।’
সপ্তাহজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে প্যারিসের পুলিশ সদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে ম্যাচটি আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ম্যাচের নতুন সূচির কারণে একই দিনে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও প্রভাব পড়তে পারে। পিএসজির উসমান দেম্বেলে, আশরাফ হাকিমি, খভিচা কাভারাস্খেলিয়া, মারকিনিওস, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, উইলিয়ান পাচো, ফাবিয়ান রুইজ, ফেরান তোরেস ও ভিতিনিয়া এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সজুড়ে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। দেশটির বিভিন্ন শহরে পৌর ভবন, সরকারি স্থাপনা এবং হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বহু দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়গুলোর খারাপ পরিবেশের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ১১০টি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ।
এদিকে, ফরাসি লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ও লিঁও—দুই দলই অষ্টম পর্বের খেলা শুরুর আগে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল।
রোববার প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খেলা আমেরিকান ফুটবলেরও প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্যারিসের উপকণ্ঠে স্তাদ দ্য ফ্রাঁস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে পিটসবার্গ স্টিলার্স ও নিউ অরলিন্স সেইন্টস। ম্যাচটি দেখতে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্যারিসের গার দ্য লিওঁ, গার দ্য নর ও শাতলে রেলস্টেশন থেকে ট্রেন কিংবা পাতালরেল ব্যবহার করে সহজেই স্টেডিয়ামটিতে পৌঁছানো যায়। একই সময়ে দুটি বড় ক্রীড়া আয়োজন এবং বিক্ষোভের কর্মসূচি থাকায় রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
