Published on
:
2 min read
কলেজে ফলাফল জানতে গিয়েছিলেন। আচমকা কলেজে চত্বরে গুলি চলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। শিক্ষাঙ্গনের মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন ১৭ বছরের সমীর দেবনাথ। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ৩০ বছর পরে বিচার পেল পরিবার। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তৎকালীন SFI নেতা সোমায়ন ঘোষকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল রায়গঞ্জ জেলা আদালত।
গত ৯ অক্টোবর রায়গঞ্জ জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশনস জজ ফাস্ট কোর্টের বিচারক রোহন সিনহা যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের বয়ান পর্যালোচনা করে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। সোমবার এই মামলার সাজা ঘোষণা করল আদালত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে আদালতের এই রায়কে ঘিরে নতুন করে সামনে এল ১৯৯৬ সালের সেই মর্মান্তিক দিনের স্মৃতি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রাণ হারানো সমীরের পরিবারের কাছে দীর্ঘ কয়েক দশকের বিচারপ্রক্রিয়ার পরে এই রায় নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৯৬ সালের ৩১ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটায় তৎকালীন রায়গঞ্জ কলেজ (ইউনিভার্সিটি কলেজ)-এ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল জানার আশায় গিয়েছিলেন ১৭ বছরের কিশোর সমীর দেবনাথ। তার বাড়ি রায়গঞ্জের কাশীবাটির রায়পুর এলাকায়। সেই সময়ে রায়গঞ্জ কলেজে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পঠনপাঠন হতো। জীবনের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ নিয়ে একরাশ আশা বুকে নিয়ে কলেজে গিয়েছিল সে। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল দেখার উত্তেজনার মধ্যেই আচমকাই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা কলেজ চত্বর। আর সেই গুলিতেই মৃত্যু হয় সমীর দেবনাথের।
মামলা সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের নেতা সোমায়ন ঘোষ ওরফে টুয়া তৎকালীন ছাত্র পরিষদের নেতা তথা কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সমীর মোদককে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে লাগে সমীর দেবনাথ নামে একজন সাধারণ ছাত্রের মাথায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে মামলা। সরকারি আইনজীবী সুব্রত দে গত ১৩ অগস্ট এই মামলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ শুনানি পর্বে মোট ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনার পরে অভিযুক্তকে তৎকালীন এসএফআই নেতা সোমায়ন ঘোষ ওরফে টুয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে। এ দিন সাজা ঘোষণা করেছে।
