অসুরবিনাশিনী থেকে মাতৃশক্তি, পুরাণের পাতায় দেবীর নানা রূপের পরিচয় মেলে। কিন্তু সেই দেবীসত্তাকে যদি পার্থিব অস্তিত্ব থেকে দেবত্বে উত্তরণের দৃষ্টিতে দেখা যায়? এ বার সেই ভাবনাকেই শিল্পের ভাষায় তুলে ধরতে চলেছে ঢাকুরিয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। পুজোর ৯৭তম বর্ষে তাদের থিম ‘অভ্যুদয়’। পুরাণের অনুষঙ্গ আর শিল্পের মেলবন্ধনে দেবীকে নতুন করে আবিষ্কারের অপেক্ষা।
১৯৩০ সালে পথচলা শুরু। সময়ের সঙ্গে কলকাতার উল্লেখযোগ্য পুজোগুলির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ঢাকুরিয়া সর্বজনীন। এ বারও তাই প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা। তনুপুকুর পার্কে চলছে মণ্ডপসজ্জা ও পুজোর শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়।
এই ভাবনাকে শিল্পের রূপ দিচ্ছেন মাজুলী গঙ্গোপাধ্যায় ও পৌষালী সরকার। আবহসজ্জার দায়িত্বে আহেলী সরকার। মণ্ডপ ও আলোকসজ্জায় শিল্পের ছোঁয়া থাকছে অরুণ মান্না, কমল সামন্ত এবং বিশ্বজিৎ সাহার। সব মিলিয়ে ‘অভ্যুদয়’ কতটা নতুন দৃষ্টিতে দেবীসত্তাকে তুলে ধরে, তা দেখতেই এ বার ঢাকুরিয়ামুখী হতে পারেন দর্শনার্থীরা।
কী ভাবে যাবেন?
বাসে যেতে চাইলে হাওড়া থেকে এস৫, ই১, ৩৭এ, এসি৫ অথবা কসবা-রথতলা মিনিবাসে উঠতে পারেন। এই বাসগুলি ঢাকুরিয়া স্টেশন হয়ে যায়। এ ছাড়া গল্ফ গ্রিন মিনিবাসেও পৌঁছনো যায় পুজোমণ্ডপে।
শিয়ালদহ থেকে আসার জন্য রয়েছে ৪৫, ২০৬, ২২৩, ২৩৪, ২৪০ এবং বিমানবন্দর-যাদবপুর মিনিবাস।
ট্রেনে যাতায়াত করতে চাইলে সোনারপুর, লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার, বারুইপুর কিংবা ক্যানিংগামী ট্রেনে উঠে ঢাকুরিয়া স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে পুজোমণ্ডপে।
পুরাণের অনুষঙ্গ, শিল্পের অভিনব ভাবনা আর দেবীসত্তার নতুন ব্যাখ্যা—‘অভ্যুদয়’ দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে যাতায়াতের পথটাও রইল হাতের নাগালে।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
