ওয়াশিংটন, ২০ অক্টোবর-মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির ১২টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
গতকাল সোমবার ইসরায়েল, সৌদি আরব, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত দ্রুত আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখার জন্য মার্কিন নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল বলে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটার পাশাপাশি যাতায়াতেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, গত রোববার কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরকারি সতর্কবার্তা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ ও বড় ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। কাতার এয়ারওয়েজ গত সোমবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামে তাদের ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া জেদ্দায় প্রতিদিনের ফ্লাইটের সংখ্যা সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামানো হবে।
এস এম/ ২০ অক্টোবর ২০২৬
