Published on
:
3 min read
ভারতীয় ক্রিকেটে সুইং, নিয়ন্ত্রণ এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থের জন্য বরাবরই পরিচিত ভুবনেশ্বর কুমার (Bhuvneshwar Kumar)। ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তবে শুধু বল হাতে নয়, জার্সির নম্বর বেছে নেওয়ার পিছনেও রয়েছে তাঁর বিশেষ হিসেব। বর্তমানে ৮৭ নম্বর জার্সি পরেন ভারতীয় পেসার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের আগ্রাসন যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে বোলারদের চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বোলারদের অসহায় ভাবতে নারাজ ভুবনেশ্বর। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশল কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনও বোলারদের হাতেই থাকতে পারে।
জার্সির নম্বর বেছে নেওয়ার পিছনে কী হিসেব?
প্রথমে ১৫ নম্বর জার্সি পরতে চেয়েছিলেন ভুবনেশ্বর। কিন্তু সেই নম্বর অন্য ক্রিকেটাররা নিয়ে নেওয়ায় বিকল্প খুঁজতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত এমন একটি নম্বর বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যার অঙ্ক দু’টি যোগ করলে হয় ৬। এই বিষয়ে ভুবনেশ্বর বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, জার্সির নম্বরের অঙ্ক দু’টি যোগ করলে যেন ৬ হয়। ১৫-সহ বেশ কয়েকটি নম্বর নেওয়ার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু সেগুলি অন্য ক্রিকেটাররা আগেই নিয়ে নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৬ হয়, এমন একমাত্র যে নম্বরটি বাকি ছিল, সেটাই বেছে নিই। আমার ১৫ নম্বর দেখতেও অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল।’
শুধু জার্সির নম্বর নয়, জার্সির পিছনে নিজের পদবি দেখার অভ্যাস করতেও সময় লেগেছিল ভুবনেশ্বরের। প্রথম দিকে তাঁর জার্সিতে ‘কুমার’ লেখা থাকত না। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ভারতীয় পেসার বলেন, ‘প্রথম দিকে আমার জার্সিতে কুমার লেখাটাও থাকত না। এই জার্সিটা যে আমার এবং আমাকে এটা পরতে হবে, সেই বিষয়টার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমার কিছুটা সময় লেগেছিল।’
বদলে গিয়েছে ক্রিকেট, বোলারদের চ্যালেঞ্জ বেড়েছে
সময় যত এগিয়েছে, ক্রিকেটের ধরনও তত বদলেছে। বিশেষ করে IPL-এ ব্যাটারদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে বোলারদেরও নিজেদের কৌশলে বদল আনতে হচ্ছে। ভুবনেশ্বরের ক্রিকেট জীবনেও IPL-এর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘ক্রিকেটার হিসেবে আমার অনেক উন্নতি হয়েছে। আর এর পিছনে আইপিএলের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে আমি মনে করি।’
IPL-এ ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে ব্যাটারদের মানসিকতায় আরও পরিবর্তন এসেছে। প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলার চেষ্টা করছেন তাঁরা। ফলে বোলারদের চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে বোলারদের অসহায় বলে মানতে নারাজ ভুবনেশ্বর। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি জানি, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এই নিয়ম ব্যাটারদের মানসিকতায় অনেক বদল এনেছে। তাঁরা প্রথম বল থেকেই আক্রমণ করছেন। তবে আমার সব সময় মনে হয়েছে, আমরা বোলারদের এমন ভাবে দেখি যেন তাঁরা অসহায়। কিন্তু বোলাররা মোটেও অসহায় নন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক জন বোলার হিসেবে তুমি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারো। ব্যাটারকে তুমি যে দিকে শট খেলাতে চাইবে, সে দিকে খেলতে বাধ্য করতে পারো।’ অর্থাৎ, ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক খেলছেন বলে বোলারদের লড়াই থেকে পিছিয়ে আসার কোনও কারণ দেখেন না ভুবনেশ্বর। তাঁর মতে, পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা তৈরি করা এবং সেই অনুযায়ী বল করতে পারাটাই আসল। বোলারদের নিজেদের দক্ষতার উপর আস্থা রাখতে হবে এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের ধরন অনুযায়ী কৌশল বদলাতে হবে।
২০০ রান করেও এখন নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক সময় ২০০ রান মানেই বড় স্কোর বলে মনে করা হতো। কিন্তু এখন সেই রানও অনেক ক্ষেত্রে জয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি ক্রিকেট নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও রান তোলার গতি এবং ব্যাটারদের আগ্রাসী মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন ভুবনেশ্বর।
এই পরিবর্তন নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘গত চার বছরে ক্রিকেট যে অনেক বদলে গিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি ক্রিকেট নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অনেক পরিবর্তন এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন যে ভাবে রান উঠছে, তাতে ২০০ রান প্রায় সাধারণ স্কোর হয়ে গিয়েছে। অনেক সময় মনে হয়, ২০০ রান করেও যথেষ্ট নয়। তবে সময়ের সঙ্গে ক্রিকেটের ধরন বদলেছে, সেটাই স্বাভাবিক।’