সৌন্দর্যের সংজ্ঞা কি সমাজ ঠিক করে দেবে, নাকি নিজের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মহিলারা নিজেরাই? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই চিনের তরুণীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এক অভিনব ফ্যাশন ট্রেন্ড। মাথার চুলে রং করা নয়, বরং বগলের লোমে নীল, হলুদ কিংবা অন্য উজ্জ্বল রং লাগিয়ে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন তাঁরা। কারও কাছে এটি নিছক ফ্যাশন, আবার কারও কাছে নিজের শরীরের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা।
‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে এই প্রবণতা নজর কাড়ছে। বিশেষ করে চিনের জনপ্রিয় লাইফস্টাইল প্ল্যাটফর্ম রেডনোটে (RedNote) নিজেদের রঙিন বগলের লোমের ছবি প্রকাশ করছেন তরুণীরা। কেউ নীল রং করছেন, কেউ আবার উজ্জ্বল হলুদ কিংবা অন্য রং বেছে নিচ্ছেন। এই নতুন সাজের পাশাপাশি অনেকে চুল ব্লিচ করা ও রং করার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করছেন।
কেন হঠাৎ বগলের লোমে রং করার প্রবণতা?
দীর্ঘদিন ধরে সমাজে মহিলাদের শরীরের স্বাভাবিক লোম নিয়ে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত। বিশেষ করে বগলের লোমকে অনেক ক্ষেত্রেই অস্বস্তিকর বা সৌন্দর্যের পরিপন্থী বলে মনে করা হয়। ফলে ওয়াক্সিং, শেভিং কিংবা অন্যান্য পদ্ধতিতে বগলের লোম তুলে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু চিনের একাংশের তরুণী এখন সেই প্রচলিত ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছেন।
২০১১ সালে লেডি গাগার সবুজ বগলের লোম নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা হয়েছিল। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিমি সিনেমা, টেলিভিশন, ফ্যাশন ম্যাগাজিন এবং লোম তোলার পণ্যের বিজ্ঞাপনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের ত্বককে লোমহীন ও মসৃণ রাখার ধারণাও জোরালো হয়। অথচ অতীতে চিনের শিল্প ও সিনেমায় মহিলাদের স্বাভাবিক বগলের লোম দেখা যেত।
সমাজমাধ্যমে কেউ বিষয়টিকে অদ্ভুত বলে মনে করছেন, আবার অনেকে মহিলাদের ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলছেন। তবে বগলের লোমে রং করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। ত্বকের এই অংশ সংবেদনশীল হওয়ায় রং বা ব্লিচ ব্যবহারে অ্যালার্জি, জ্বালা কিংবা ত্বকে প্রদাহ হতে পারে। তাই এ ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের আগে তার উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
