বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের শিশুরা গড়ে দৈনিক ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত মোবাইল স্ক্রিনে কাটাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের শিশুরা গড়ে দৈনিক ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত মোবাইল স্ক্রিনে কাটাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এর ফলে তাদের যে মারাত্মক ক্ষতিগুলো হচ্ছে:
## ১. মানসিক ও আচরণগত সমস্যা
* মেজাজ খিটখিটে হওয়া ও একগুঁয়েমি: ফোন কেড়ে নিলে বা ইন্টারনেট না থাকলে শিশুরা চরম আগ্রাসী ও খিটখিটে আচরণ করে।
* মনোযোগের ঘাটতি (ADHD): শর্ট ভিডিও বা দ্রুতগতির গেমসের কারণে শিশুরা পড়াশোনা বা কোনো নির্দিষ্ট কাজে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ দিতে পারে না।
* ডিপ্রেশন ও সোশ্যাল মিডিয়া এনজাইটি: কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার বিষণ্ণতা, হীনম্মন্যতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
## ২. শারীরিক বিকাশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
* মায়োপিয়া বা চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস: একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে শিশুদের চোখের মণি ও রেটিনার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, যার ফলে খুব অল্প বয়সেই মায়োপিয়া (ক্ষীণদৃষ্টি) রোগ হচ্ছে।
* স্থূলতা (Obesity) ও ডায়াবেটিস: মাঠে গিয়ে শারীরিক খেলাধুলা না করে অলস বসে ফোন টেপার কারণে শিশুদের ওজন দ্রুত বাড়ছে, যা পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
* অনিদ্রা: ঘুমানোর আগে মোবাইল স্ক্রিনের নীল আলো মস্তিষ্কের 'মেলাটোনিন' হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে শিশুদের গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং তারা সারাদিন ক্লান্ত থাকে।
## ৩. সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া
* ভাষা শিখতে ও কথা বলতে দেরি (Speech Delay): ২ বছরের কম বয়সী শিশুরা অতিরিক্ত স্ক্রিন দেখলে মানুষের সাথে যোগাযোগের ক্ষমতা হারায়, ফলে তাদের কথা বলা শিখতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দেরি হয়।
* বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্নতা: তারা বাইরের পরিবেশ, প্রকৃতি ও বন্ধুদের সাথে মেশার চেয়ে ভার্চুয়াল জগতকে আপন ভাবা শুরু করে, ফলে তাদের সামাজিক শিষ্টাচার ও মানবিক গুণাবলি ঠিকঠাক বিকশিত হয় না
