নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি আব্বাস প্রামানিক পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। তার বয়স ছিল ১২৩ বছর ৪ মাস।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশেষ ত্যাগ করেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নিজ গ্রামের দূর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মরহুম আব্বাস প্রামাণিকের জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
জানা যায়, নানা ইতিহাসের সাক্ষী ছিলেন আব্বাস প্রামাণিক। তার এ দীর্ঘ জীবনের ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তানি বাহিনীদের বর্বরতা এবং দেখেছেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
কর্মজীবনে তিনি মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন দুর্গাপুর স্কুলে। পাশাপাশি গ্রামে ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে দিয়েছিলেন কোরআন শিক্ষা। রেখে গেছেন দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে। তিনি মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে ছিলেন।
সম্প্রতি বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীর নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির হন আব্বাস প্রামাণিক। সে সময় সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। শেষ বয়সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় আলোচিত ব্যক্তি হয়ে উঠেন আব্বাস। আলোচিত ও বিস্ময়কর বিষয় হলো ১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই নিয়মিত নামাজ-কোরআন পড়তেন তিনি। খালি চোখে স্পষ্ট দেখতে পেতেন।
খুবই সাদাসিধে ও সাদামাঠা জীবনযাপন করতেন তিনি। অপচয় একেবারেই প্রছন্দ করতেন না। হাতে রাখতেন ক্যাসিও ঘড়ি। ৪০ বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তাকে দেখভাল করতেন নাতি-বউয়েরা। একসময় অর্থ-সম্পদও ছিল তার। তবে ভাঙাচোরা ঘরেই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেছেন। নিজের কাজ নিজেই করতেন। বেশির ভাগ সময় হেঁটেই চলাচল করেছেন।
বেশ কিছুদিন হলেই তার শরীর ভাল ছিল না। সোমবার সকালে হঠাৎ করে তার শরীর আরও খারাপ হয়। খবর দেওয়া তার চিকিৎসার দায়ভার নেওয়া খুবজীপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্রে। খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে ডাক্তার এসে দেখে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যান। ক্রমেই অবস্থার অবনতি হয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেষ নিঃশেষ ত্যাগ করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্বাসের মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, ৫ বছর বয়সে মা মারা যান। বাবার কাছেই বড় হয়েছি। সুযোগ পেলেই পছন্দের খাবার নিয়ে বাবাকে দেখতে যেতাম। তিনি তার সন্তান ও নাতিদের সঙ্গেই থাকতেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন আব্বাস প্রামাণিক। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে ছিলেন। আব্বাস প্রামাণিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। মরহুমে রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
