Published on
:
2 min read
এই সময়, ফলতা: অন্দরমহল থেকে নাটমন্দির, দক্ষিণ শহরতলির ফলতার বঙ্গনগরের সরকারবাড়ির আনাচে কানাচে আজও ছড়িয়ে রয়েছে প্রায় চারশো বছরের ইতিহাস। সেই প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুজো। সময় বদলেছে, কমেছে পুরোনো দিনের জৌলুস। তবে ঐতিহ্য ও আবেগে এখনও অমলিন এই পুজো। পুজো উপলক্ষে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফলতার প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম সরকারবাড়ির এই পুজো। পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, এক সময়ে এই বাড়িতে ঘটা করে কালীপুজোর প্রচলন ছিল। পরে শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেই পরম্পরা মেনেই আজও সরকারবাড়ির নাটমন্দিরে দুর্গাপুজোর পাশাপাশি লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো ও সরস্বতীপুজো পালিত হয়।
পারিবারিক ইতিহাস থেকে জানা যায়, ষোড়শ শতকের শেষভাগে বাংলার সুলতান দাউদ খানের পরাজয়ের পরে মুঘল শাসনের বিস্তার ঘটে। কথিত রয়েছে, মানসিংহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জমিদারি বাওয়ালি রাজবাড়ির মণ্ডল পরিবারকে প্রদান করেন। সেই মণ্ডল পরিবারের সঙ্গে সরকারবাড়ির আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক কাহিনি অনুযায়ী, সেই সময়ে সরকার পরিবারের কর্তা শোভারাম সরকার বাওয়ালিতে তাঁর দাদুর কাছে গিয়ে জমিদারি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে বীরত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি জমিদারিও লাভ করেন। এর পর বঙ্গনগরে প্রাসাদোপম বাড়ি, সেরেস্তা ও চণ্ডীমণ্ডপ গড়ে তোলেন শোভারাম সরকার। প্রথমে বাড়িতে ঘটা করে কালীপুজোর সূচনা করেন শোভারাম। পরে আনুমানিক ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে সরকারবাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয় বলে জানা যায়। প্রায় ৪২৫ বছরের পথ পেরিয়ে আজও সেই পুজো চলছে আবেগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে। অতীতে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে যথাক্রমে সাতটি, আটটি ও ন’টি পাঁঠা বলি দেওয়া হতো। দালানে চলত নরনারায়ণ সেবা। পুজোয় অংশ নিতেন গ্রামের বাসিন্দারাও। সময়ের সঙ্গে পুজোর জাঁকজমক কিছুটা কমলেও ঐতিহ্যের টানে ভাটা পড়েনি উৎসাহে।
পুজোর কয়েকদিন সরকারবাড়িতে একত্রিত হন বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা। এ বারও পুজোকে ঘিরে শুরু হয়েছে বাড়ি পরিষ্কার, মণ্ডপ সাজানো এবং প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি। বাড়ির প্রবীণ সদস্য কমলকুমার সরকার বলেন, ‘নিয়ম ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা পুজো চালিয়ে যাচ্ছি। পারিবারিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মও এগিয়ে আসছে।’ সরকারবাড়ির বর্তমান প্রজন্মের তন্ময় সরকার ও অর্ঘ্য সরকাররা বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পুজো এই এলাকার অন্যতম প্রাচীন পুজো। আজও বহু মানুষ পুজো দেখতে আসেন। সবার জন্য ভোগ বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।’
