মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা বা বিষয়ের ওপর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন। বিরল এই পদক্ষেপের আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তার আওতাভুক্ত দেশগুলো হলো ইসরাইল, সৌদি আরব, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরান।
গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকির কারণে ফ্লাইট বাতিল, আকাশপথ বন্ধ হওয়া ও ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সংঘাত দ্রুত ওই এলাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নাগরিকদের আগেভাগেই জরুরি পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, “ইরান এবং তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, কিংবা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকানদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থান, যেমন মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাতে পারে।”
সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছে। দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছে এবং ভ্রমণ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস রোববার নাগরিকদের সরকারি সতর্কবার্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরের দিকে নজর রাখতে, বিক্ষোভ বা বড় ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে কাতার এয়ারওয়েজ সোমবার ঘোষণা করেছে, তারা ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী এবং সেখান থেকে আসা ফ্লাইট স্থগিত রাখবে। জেদ্দাগামী ফ্লাইটের সংখ্যা দৈনিক সাতটি থেকে কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। সূত্র: ইউরো নিউজ
বিআলো/শিলি