চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এ মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ মোট আসামি ২২ জন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। এ সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, আবদুল কাইয়ুমসহ রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা ছিলেন।
প্রসিকিউশন জানায়, ২২ আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন করেন গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো শুনানি হয়। এরপর ৮ ও ১৩ অক্টোবর যথাক্রমে এ কার্য সম্পন্ন হলে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিপক্ষের আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। ফলে যথানিয়মে এ মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষী হাজির করবে রাষ্ট্রপক্ষ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তার হয়ে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করেন আইনজীবী এহসানুল হক।
শুনানি পর্বে ট্রাইব্যুনালকে তিনি জানান, যেকোনো অপরাধ সংঘটনের পেছনে তারিখ, সময় ও স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রসিকিউশন থেকে ফজলে করিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, এর সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ বা সাক্ষী আনতে পারেননি তারা। এমনকি এ মামলার ঘটনাস্থল হলো চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা। অথচ তিনি অন্য আসনের সাংসদ। তাই ফজলে করিমের পুনর্বিবেচনার আবেদনটি বিবেচনায় নেওয়ার প্রার্থনা করেন এই আইনজীবী।
ফজলে করিম ছাড়া গ্রেপ্তার বাকি চার আসামি হলেন- যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু। পাঁচজনই আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
হাছান মাহমুদসহ পলাতক অন্যরা হলেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল সুনির্দিষ্ট তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনে প্রসিকিউশন। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম, হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা এবং তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহতের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে।
এমআরআর/জেডএস
