আজকাল ওয়েবডেস্ক: নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত ‘রেস কোর্স মসজিদ’ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-র দাবি, ‘রেস কোর্স মসজিদ’টি ১৯৭৭ সাল থেকেই গেজেটভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি। তাঁর প্রশ্ন, তাহলে কেন দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড সেটির উচ্ছেদ বা ভাঙার আদেশের বিরুদ্ধে কোনও আইনি চ্যালেঞ্জ জানাল না? গোটা বিষয়টি নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ওয়েইসি।
এক্স -এ দেওয়া এক পোস্টে ওয়েইসি জানান, ‘ওয়াকফ সংশোধনী আইন’-এর অধীনে ‘রেস কোর্স মসজিদ’টি ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ (ব্যবহারের ভিত্তিতে ওয়াকফ) হিসেবে সুরক্ষিত। তিনি আরও বলেন, অতীতে নথিভুক্ত সম্পত্তিগুলো আইনের আওতায় সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য। ওয়েইসি বলেন, “১৯৭৭ সাল থেকে মসজিদটি একটি গেজেটভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও, ওয়াকফ বোর্ড ভাঙার আদেশের বিরুদ্ধে কোনো চ্যালেঞ্জ জানায়নি। এমনকি বিষয়টি সমাধানের জন্যও তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
হায়দ্রাবাদের সাংসদ দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড গঠিতই হয়নি। তিনি বলেন, “যেহেতু ২০২৩ সাল থেকে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড গঠিত নেই, তাই এই বিষয়টি সমাধান করা মন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে বোর্ডের সিইও চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারতেন। কিন্তু সেটি করা হয়নি।”
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত শতবর্ষী এই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে কেন্দ্র করেই ওয়েইসি এই হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস’ গত ১৯ অক্টোবর একটি উচ্ছেদ নোটিশ জারি করে। সেখানে মসজিদ প্রাঙ্গণটিকে ‘অননুমোদিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং ছয় দিনের মধ্যে জায়গাটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস’-এর দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। অন্যদিকে, ‘জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ’ মসজিদ ও এর সংলগ্ন কবরস্থানটির সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছে, আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেন মসজিদটি ভাঙার কোনও পদক্ষেপ করা না হয়। জমিয়তের প্রতিনিধি দলের সদস্য মহম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেটে উল্লিখিত নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় এই স্থানটির নাম রয়েছে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের সংরক্ষিত সংশোধিত তালিকাতেও স্থানটির উল্লেখ রয়েছে।
জমিয়ত দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও এনডিএমসি-র কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে। পাশাপাশি, বিষয়টি আইনি বিরোধের অধীনে থাকাকালীন উচ্ছেদ বা ভাঙার কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, রিজিজু প্রতিনিধি দলের আবেদন শুনেছেন এবং এ বিষয়ে “সর্বাত্মক প্রচেষ্টার” আশ্বাস দিয়েছেন।
