আজকাল ওয়েবডেস্ক: রিলায়েন্স জিও-র আইপিও ঘিরে যখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে, তখন সংস্থার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন চেয়ারম্যান আকাশ আম্বানি। মোবাইল রিচার্জের দাম বাড়ানো কিংবা প্রতি জিবি ডেটার জন্য বেশি টাকা নেওয়াই যে সংস্থার আয় বাড়ানোর একমাত্র পথ নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বরং গ্রাহকদের আরও বেশি ডিজিটাল পরিষেবা দেওয়া, বাড়িতে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের পরিধি বাড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক পরিষেবা চালুর উপর জোর দিতে চায় জিও।
মানিকন্ট্রোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকাশ আম্বানি জানান, ট্যারিফ বা পরিষেবার দাম সংস্থার ব্যবসায়িক মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও রাজস্ব বৃদ্ধির একমাত্র উপায় নয়। ৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহকের বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত ডিজিটাল পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। অর্থাৎ, শুধু রিচার্জের দাম বাড়িয়ে নয়, গ্রাহকদের একাধিক পরিষেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করেই আয় বাড়াতে চায় জিও।
কোন কোন ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছে জিও?
সংস্থার পরিকল্পনায় রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রথমত, বাড়িতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা এবং ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস-এর পরিধি বাড়ানো। এর মাধ্যমে আরও বেশি পরিবারের কাছে ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, OTT প্ল্যাটফর্ম, গান শোনার পরিষেবা, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ক্লাউড স্টোরেজের মতো ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন পরিষেবার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি, সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়িক সংস্থার জন্য AI-ভিত্তিক পরিষেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য ক্লাউড, কানেক্টিভিটি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সমাধান দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় জিও।
সংস্থার লক্ষ্য, একজন গ্রাহক যাতে একই প্ল্যাটফর্মে একাধিক পরিষেবা ব্যবহার করেন। তাতে গ্রাহকপিছু গড় আয় বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাড়বে কি মোবাইল রিচার্জের দাম?
জিও-র পরবর্তী ট্যারিফ বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা থাকলেও আকাশ আম্বানি এবিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বা মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ জানাননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের চাহিদা, প্রতিযোগিতা, মূল্যবৃদ্ধি, বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দাম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিষেবার মান বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের কাছে তা সাশ্রয়ী রাখাও সংস্থার অগ্রাধিকার। ফলে ভবিষ্যতে রিচার্জের দাম বাড়বে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
২১ অক্টোবর থেকে জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও
এই ঘোষণার মধ্যেই ২১ অক্টোবর, বুধবার থেকে সাবস্ক্রিপশনের জন্য খুলেছে জিও প্ল্যাটফর্মসের বহু প্রতীক্ষিত আইপিও। ইস্যুর আকার ৩০,২১৩ কোটি টাকা। শেয়ারপ্রতি মূল্যসীমা ১,০৬৫ থেকে ১,১১৯ টাকা। সাবস্ক্রিপশন চলবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত এবং সম্ভাব্য তালিকাভুক্তির তারিখ ২৮ অক্টোবর।
আইপিও-টি সম্পূর্ণ নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে আনা হচ্ছে। অর্থাৎ, এতে পুরনো শেয়ার বিক্রির কোনও অফার ফর সেল অংশ নেই। সর্বোচ্চ মূল্যসীমা অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মসের মূল্যায়ন প্রায় ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকা। আইপিও থেকে পাওয়া অর্থের মধ্যে ২৭,৫০০ কোটি টাকা রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আইপিও-র আগে জিও-র বার্তায় স্পষ্ট, ভবিষ্যতে সংস্থার আয় বৃদ্ধির কৌশলে শুধু রিচার্জের দাম নয়, ডিজিটাল পরিষেবা, ব্রডব্যান্ড এবং AI-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। তবে গ্রাহকদের জন্য পরবর্তী রিচার্জের দাম কত হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
