যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আল জাজিরার ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা চালাবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনের পর ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বজায় রেখে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ অব্যাহত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে সীমিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
রয়টার্সের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে সিএনএনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রচলিত বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ (এমওএবি) ব্যবহারের বিষয়টি সামরিক পরিকল্পনাকারীদের আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো ও পরমাণু-সংশ্লিষ্ট স্থাপনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা সিএনএনের প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ফলে এ তথ্যকে চূড়ান্ত সামরিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
নতুন করে হামলা হলে ইরানের পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কাও রয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ব্যয় এবং সংঘাতের বিস্তার নিয়েও ওয়াশিংটনকে হিসাব করতে হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সংঘাতের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
এদিকে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল, মার্কিন নৌ-অবরোধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের ওপর সামরিক চাপ বজায় রাখা নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো—এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সেটিই বড় প্রশ্ন। তবে নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর বক্তব্য থাকলেও নির্বাচনের পর নতুন অভিযান শুরু হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
The post ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত appeared first on ভোরের চেতনা.
