১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসা, প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন; একই সঙ্গে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখা এবং ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচন আয়োজনের অশুভ পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ অন্য নেতারা।
তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। যদি এ ধরনের কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নিতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।”
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, যা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে জোর করে তাদের ক্ষমতায় রাখা সম্ভব নয়। সরকারের প্রতিটি আচরণে মনে হচ্ছে, তারা অজুহাত তৈরি করে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে চায়। মাগুরা মার্কা নির্বাচনের অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসনে দলীয়করণ ও মেধা হত্যা
প্রশাসনের সর্বত্র নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও বৈষম্য নির্মূলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল। কোটা আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলন অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে মেধা হত্যার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু বর্তমান নব্য ফ্যাসিবাদও একই পথে হাঁটছে।
তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি হচ্ছে না; বরং দলীয় বিবেচনায় তা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় একজন দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শামসুল আলমের নিয়োগ নির্লজ্জ দলীয়করণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এই সমন্বয়ক বলেন, অবিলম্বে দুর্নীতির পথগুলো বন্ধ করা উচিত। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং গুম-খুন রোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের কথা তাঁরা বলেছেন।
আন্দোলনের সাত দফা দাবি
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন ও লংমার্চ করছেন।
৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হবে
আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক হবে বলে জানান ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সরকার যেন অনতিবিলম্বে জনগণের ভাষা বুঝতে পারে। আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত হেডকোয়ার্টার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো উসকানি বা সামান্যতম আশঙ্কা থাকলেও সরকার ও প্রশাসনকে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে তাঁরা বুঝবেন, সরকার ও ফ্যাসিবাদী শক্তি যৌথভাবে কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য প্রশাসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর সকাল ৮টায় মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ফকিরহাট হয়ে খুলনায় পৌঁছাবে। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর। এতে গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় সকাল ৯টায়, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে সকাল ১১টায়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে বেলা সাড়ে ১২টায় এবং ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে বিকেল ৫টায় পথসভা হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
