কক্সবাজারে আগামী ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে জেলার ১৭৯টি বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি সুবিধাজনক পরিস্থিতি অনুযায়ী ফানুস উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া রামু, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জাহাজ ভাসা উৎসব।
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর দুপুর ২টায় চকরিয়ার হারবাংছড়া রাখাইনপাড়া-সংলগ্ন খালে এবং একই সময়ে রামুর ফকিরা বাজারসংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে জাহাজ ভাসা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৭ অক্টোবর দুপুর ২টায় কক্সবাজার শহরের কবিতা চত্বর পয়েন্টে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। একই দিন কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডী খালেও জাহাজ ভাসা উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, রামুতে ৩৪টি, চকরিয়ায় ২৩টি, পেকুয়ায় একটি, মহেশখালীতে ১২টি, উখিয়ায় ৬০টি এবং টেকনাফে ১৭টি বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় ১৭৯টি বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হবে।
রামুর বাঁকখালী নদীতে অনুষ্ঠিত জাহাজ ভাসা উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ উৎসবে রামুর বিভিন্ন গ্রামের মানুষ অংশ নেন। বাঁশ, বেত ও কাঠসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় নানা প্রাণীর প্রতিকৃতিসংবলিত বাহারি জাহাজ। পরে সেগুলো নদীতে ভাসানো হয়।
রামু কেন্দ্রীয় প্রবারণা ও জাহাজ ভাসা উৎসব উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অর্পন বড়ুয়া বলেন, ‘আগামী ২৬ অক্টোবর রামুর বাঁকখালী নদীর ফকিরা বাজার পয়েন্টে জাহাজ ভাসা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। রামুর সাতটি গ্রাম থেকে জাহাজ নামানো হবে। এবার সিংহ, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন প্রতিকৃতিতে জাহাজ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উৎসব সম্পন্ন করতে চাই।’
তিনি আরও জানান, এবারের উৎসবে সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) ও মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট দেবদূত মজুমদার বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যেসব স্থানে অনুষ্ঠান হবে, সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদ, পূজাসহ অন্যান্য উৎসবের মতোই এ উৎসবেও সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জাহাজ ভাসা উৎসবে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি উৎসবস্থলে ডুবুরি দল নিয়োজিত রাখা, সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও বিভাগের কন্ট্রোল রুমের নম্বর প্রচার এবং পানিতে নামা ব্যক্তিদের সাঁতার জানা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রামুর বাঁকখালী নদীতে উৎসব উপলক্ষে বাঁশবাজার বন্ধ রাখাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে। ধর্মীয় উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী জাহাজ ভাসা আয়োজন ঘিরে কক্সবাজারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে প্রস্তুতি।
