খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোতে শূন্য থাকা ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ বন্ধ করে নিয়মিত নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এসব পদ পূরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি জনবলসংকট, কৃষিজমি সংরক্ষণ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে জমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা
করা হচ্ছে।
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়ে বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী
মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সরকার অত্যন্ত সচেতন। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশু খাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানো, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কার্যালয়ে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল পর্যবেক্ষণে মোবাইল ভ্যান সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে তিনি সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে ত্রুটি এড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করেন তিনি। একই সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, কমিটির সদস্য আবুল কালাম, মো. আবু তালেব মন্ডল, মো. আব্দুল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
