
কালিয়ায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত, বাল্যবিয়ে রোধে সচেতনতার আহ্বান
শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নড়াইলের কালিয়ায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা কেয়া দাশ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী খালিদ আহমদ উসমানীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নারী ও শিশুরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁরা বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনে কন্যাশিশুদের সুশিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি শিশুকে দেশপ্রেমিক, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং সামাজিক কুসংস্কার প্রতিরোধে অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, কন্যাশিশুরা সমাজের বোঝা নয়, বরং দেশের সম্ভাবনা ও উন্নয়নের অন্যতম শক্তি। তাদের সুশিক্ষা, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বাল্যবিয়ে একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নির্ভয়ে বেড়ে উঠতে পারে এবং নিজের মেধা ও যোগ্যতায় দেশ ও বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
